রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিট কমিশনিং লাইসেন্স পেয়েছে। ফলে কেন্দ্রটি চালু করতে আর কোনো বাধা থাকল না। সবকিছু ঠিক থাকলে এ মাসের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রকল্প কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমকে জানান, জ্বালানি লোডিং শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এরপর পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া (চেইন রিঅ্যাকশন) শুরু করতে আরও দুই মাস সময় প্রয়োজন। সব মিলিয়ে জ্বালানি লোডিংয়ের পর পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে অন্তত ১০ থেকে ১১ মাস সময় প্রয়োজন হবে।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালে উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল। কয়েকদফা সময়সীমা পেছানো হয়।
জানা গেছে, ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করার কথা ছিল। এজন্য রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছিল উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভার্চুয়ালি লোডিং অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কমিশনিং লাইসেন্স না পাওয়ায় এই কর্মসূচি বাতিল হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি লোড করার আগে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিটি ধাপ শেষে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ইস্যু করে থাকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। জ্বালানি লোড করার আগে লাইসেন্স নিতে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্রটির অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এরপরই আপত্তি তোলে পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানান, সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই কমিশনিং লাইসেন্স দিয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সব কাজ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ। আশা করছি এপ্রিলেই ফুয়েল লোড করা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। ১,২০০ মেগাওয়াটের দুইটি ইউনিট মিলে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা “রসাটম”।