চট্টগ্রামে জ্বালানি ঘাটতির কারণে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে পানির সংকটও।
পিডিবি ও চট্টগ্রাম সিস্টেম কন্ট্রোল (স্কাডা) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। ওই সময়ে উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।
এর আগে বেলা ১১টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।
স্কাডার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র থেকে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। বন্ধ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট। এছাড়া বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সকালে কিছু উৎপাদন হলেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।
বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটাই নির্ভর করছে বাঁশখালী ও শিকলবাহা কেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যা ৭টার হিসাব অনুযায়ী বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট এবং শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে এসেছে ১৫০ মেগাওয়াট।
পিডিবি চট্টগ্রামের সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা অ্যাকুইজিশন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান গণমাধ্যমকে জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণে বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে লোডশেডিং ওঠানামা করছে।