মুক্তিযুদ্ধকে সবার উপরেই স্থান দিতে হবে : মুজিবনগর দিবসে বক্তারা

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ minutes ago

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে যাওয়া  বিশিষ্টজনেরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করেন।

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারা একাত্তরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন না বা মুক্তিযুদ্ধকে যথাযথ সম্মান জানাবেন না—এটি মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের বোধোদয় হওয়া উচিত এবং আগামীতে এসব দিবস পালনে কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, এই ঐতিহাসিক দিনে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকায় তারা ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে ধারণ করা একটি রাষ্ট্রের জন্য এমন অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আবু সাইদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে যারা ক্ষমতায় আসে, তাদের পক্ষেই একাত্তরের স্মৃতিকে উপেক্ষা করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, সরকারের উচিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সব দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় পালন করা এবং এ বিষয়ে দ্রুত বোধোদয় ঘটানো।

তিনি আরও বলেন, মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এসব স্থাপনা দ্রুত পুনঃস্থাপন করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ‘অস্থায়ী সরকার’ শব্দটি মূলত তৎকালীন সংবাদমাধ্যমের ব্যবহার করা শব্দ হলেও বাস্তবে এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম সাংবিধানিক সরকার। তার মতে, এই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্যই এ সরকার গঠিত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঢাকায় ফিরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহসাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

এদিকে সকালেও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের পক্ষ থেকে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি আহসান আলী খান, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আবদুল মালেক, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের উপজেলা সভাপতি মোখলেছুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলামসহ অন্যরা।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। দিনটি প্রতি বছর মুজিবনগর দিবস হিসেবে পালিত হলেও এবার রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

  • দিবস
  • মুক্তিযুদ্ধ
  • মুজিবনগর
  • #