চাকরিচ্যুত ৬ ব্যাংকের ১০ হাজার কর্মীর পুনর্বহাল দাবি

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ঘন্টা আগে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হওয়া ইসলামী ধারার ছয়টি ব্যাংকের ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করছেনে ভূক্তভোগীরা। রোববার রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই দাবি জানিয়েছেন।

ব্যাংকগুলো হলো- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

‘ব্যাংকিং খাতে বৈষম্য ও গণহারে চাকরিচ্যুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান’ শীর্ষক এই মানববন্ধনে ওই ছয় ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের স্বপদে অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি জানান।

একইসঙ্গে তারা মিথ্যা অভিযোগ, হয়রানি ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করা, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এছাড়া দলীয় কর্মীদের অবৈধ নিয়োগ, অবৈধ চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান, এমডি, এডিশনাল এমডি, ডিএমডিসহ জুলুমবাজ ম্যানেজমেন্ট ও পর্ষদের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন, ‘গত কয়েক মাসে দেশের ছয়টি ইসলামি ধারার ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত, বৈষম্যমূলক ও প্রতিহিংসামূলক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। অযৌক্তিক বদলি, মানসিক ও শারীরিক হয়রানি চালানো হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের অনেককেই অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে নজিরবিহীন।

শুধু তাই নয়, মানবসম্পদ নীতিমালা লঙ্ঘন করে যোগ্যতাহীন ব্যক্তিদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত দক্ষ ও অভিজ্ঞদের অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ আমাদের জীবনের সঞ্চয়, আমাদের পরিবারের স্বপ্ন, আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ-সবকিছুই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নিমজ্জিত।’

তারা বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির না করার অপরাধে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা জামায়াত-শিবির সমর্থক হলে আজ আমাদের এই দুরবস্থায় পড়তে হতো না। শুধুমাত্র দলীয় ব্যানার না থাকায় যদি আমাদের চাকরিচ্যুত হতে হয়, সেটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক।’

তারা আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি প্রভাবশালী কুচক্রী গোষ্ঠীর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক হারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলি, আইডি ইনঅ্যাকটিভ করা, প্রশাসনিক হয়রানি এবং তথাকথিত ‘দক্ষতা মূল্যায়ন’ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন, যা হাজারো পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

তারা বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই- আমরা সংঘাত চাই না, আমরা ন্যায়বিচার চাই। আমরা বিশৃঙ্খলা চাই না, আমরা সুশাসন চাই। আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাব।

  • কর্মী
  • চাকরিচ্যুত
  • দাবি
  • পুনর্বহাল
  • ব্যাংক
  • #