মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

লেখক:
প্রকাশ: ২৩ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের মোংলা থেকে কোস্ট গার্ড সদস্য পরিচয়ে মিরাজ শেখ (৩০) নামের এক জেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ওই যুবকের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে এটি ‘জোরপূর্বক গুমের প্রথম ঘটনা’ উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

রোববার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরডব্লিউ অবিলম্বে নিখোঁজ মিরাজ শেখকে খুঁজে বের করার পাশাপাশি গুম রোধে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি ও কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।

নিখোঁজ মিরাজ শেখের বাড়ি সুন্দরবনসংলগ্ন মোংলার জয়মণি গ্রামে। তিনি পেশায় একজন জেলে। মিরাজের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাকে সর্বশেষ কোস্ট গার্ডের হেফাজতে দেখা গেছে।

মিরাজের স্ত্রী মুক্তা খানম জানান, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন তার স্বামীকে কোস্ট গার্ড আটক করেছে। মুক্তা বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি কোস্ট গার্ডের পন্টুনে গিয়ে দেখি তাকে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে কোস্ট গার্ডের পোশাকে ৮ থেকে ১০ জন এবং সাদা পোশাকে ৬-৭ জন ছিলেন। তাকে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট পর স্পিডবোটে করে হাড়বাড়িয়া ক্যাম্পের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।’

পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা মোংলার দিগরাজে কোস্ট গার্ড কার্যালয়ে গেলে প্রথমে বলা হয়, মিরাজকে নিয়ে একটি অভিযান চলছে এবং বিকেলে আসতে বলা হয়। তবে বিকেলে গেলে কোস্ট গার্ড জানায়, মিরাজ নামে কেউ তাদের কাছে ছিল না।

এদিকে যে চায়ের দোকান থেকে মিরাজকে আটক করা হয়েছিল, সেই দোকানের মালিক এইচআরডব্লিউকে জানিয়েছেন, গত ২১ এপ্রিল কোস্ট গার্ড সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তি এসে মিরাজের মোটরসাইকেলের তালা খুলে নিয়ে যান এবং পরদিন সেটি আবার ফেরত দিয়ে যান।

ঘটনার পর গত ২৩ এপ্রিল মোংলা থানায় জিডি এবং ৮ মে সংবাদ সম্মেলন করে মিরাজের সন্ধান দাবি করে তার পরিবার।পরে কোনো প্রতিকার না পেয়ে মিরাজের বাবা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। রিটের শুনানি শেষে গত ১২ জুলাই হাইকোর্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে ১৫ দিনের মধ্যে নিখোঁজ মিরাজ শেখকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। এইচআরডব্লিউ আদালতের এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে শুরু থেকেই মিরাজকে আটকের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে কোস্ট গার্ড। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেন এবং অপারেশনস অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল আরেফিন জানান, মিরাজকে আটকের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে হাজারো মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ এই ঘটনাটি দেখিয়ে দিচ্ছে, প্রকৃত সংস্কার না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে এই চর্চা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে।’

সংস্থাটি আরো উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমের স্বাধীন তদন্ত ও আটককেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষমতা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি নির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার সেই অধ্যাদেশ নবায়ন না করে নতুন আইন প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবিত আইনে গুমের তদন্তভার পুনরায় পুলিশের হাতে রাখা এবং মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা সীমিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করবে।

 

  • অভিযোগ
  • উদ্বেগ
  • গুম
  • মিরাজ শেখ
  • হিউম্যান রাইটস ওয়াচ