শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ ঘন্টা আগে

রাজধানীর শাহবাগ থানায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিককে মারধর করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহবাগ থানা এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ‘দেয়াল লিখন’ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই তথাকথিত ‘গুপ্ত রাজনীতি’এবং জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে সন্ধ্যায় শাহবাগে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা ছাত্রশিবিরের তথাকথিত ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বন্ধের দাবি জানান।

এক পর্যায়ে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা শাহবাগে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে শাহবাগ থানা প্রাঙ্গণের ভেতরেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়।

শাহবাগ থানার সামনে সংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, তারেক রহমান ও জাইমা রহমানকে নিয়ে যে ধরনের অশ্লীল ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ছাত্রদলের নেতারা থানায় এসেছিল। কে বা কারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেছে, শাহবাগে আসুন। তারা তিন থেকে চারজন এখানে আসার ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা হাজারো নেতা-কর্মীর মাঝে এসে আহত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসভাপতি চেষ্টা করেছেন তাদের সেইভ করার জন্য। পরে ছাত্রদল, শিবির ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শাহবাগ থানার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনারসহ (ডিসি) ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বর্তমানে থানার ভেতরে অবস্থান করছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সদস্য ব্যতীত অন্য কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাত পৌনে ১০টার দিকে সেখান থেকে সরে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে গেছেন।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, কুরুচিপূর্ণ একটি ফটোকার্ডকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে। ঢাবির এস এম হলের আব্দুল আল মাহমুদ নামের শিবিরে একটি নেতার ফেসবুক থেকে ফটোকার্ডটি ছড়ানো হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী দাবি করছে, এটা ফেইক। সে এটা করেনি। সে থানায় এসেছে এই ব্যাপারে অভিযোগ দিতে। তখন খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও থানায় এসেছে। এই সময় থানায় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। তখন আমরা তাদের সেইভ করেছি। পরে এ বি জোবায়ের ও মুসাদ্দিক এলে আবার উত্তেজনা দেখা দেয়। তখন দুই পক্ষের মধ্যে আবার ধস্তাধস্তি, কিল-ঘুষি মারার ঘটনা ঘটে। তখন আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সবাইকে থানা থেকে বের করে দেই। পরে মুসাদ্দিক ও এ বি জোবায়েরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ডাকসুর ভিপি ও জিএস এলে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়৷ তখন ছাত্রদলের সভাপতি এলে সবাই মিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ডিসি মাসুদ আলম আরও জানান, ওই ফটোকার্ডের বিষয় নিয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। যে শিক্ষার্থীর আইডি থেকে পোস্ট দেওয়া হয়েছে, তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে তিনি এখনও জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করতে পারেননি।

  • ছাত্রদল
  • শাহবাগ
  • শিবির
  • সংঘংর্ষ
  • #