ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্ত এলাকায় ইছামতি নদী থেকে এক বিদেশি নাগরিকের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি আফগানিস্তানের নাগরিক হাশমত মোহাম্মাদির বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি ঘিরে এখন দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও রহস্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে একটি লাশ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবি ক্যাম্প ও মহেশপুর থানায় খবর দেয়। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ ও পিবিআই লাশের পরিচয় শনাক্তের জন্য আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র খোঁজার চেষ্টা করে কিন্তু কোথাও ম্যাচ না করায় শেষ পর্যন্ত লাশ বেওয়ারিশ হয়ে যায়।
নিয়ামানুযায়ী লাশটি দাফনের জন্য ঝিনাইদহ আন্জুমানে মফিদুল ইসলামের নিকট হস্তান্তর করে। সংস্থাটি ১৪ এপ্রিল লাশটি দাফন করে ফেলে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া লাশের ছবি দেখে নিহত হাশমত মোহাম্মাদির ভাই আমেরিকা প্রবাসী মোহাম্মাদ ইরা লাশটি তার ভাইয়ের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তির নাম হাশমত মোহাম্মাদি। তিনি আফগানিস্তানের নাগরিক। তবে কীভাবে তিনি ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় এলেন, তিনি বৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন কি না, নাকি অন্য কোনো পথে সীমান্তে পৌঁছেছিলেন— এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে কোনো পাসপোর্ট, ভিসা কাগজপত্র বা পরিচয়পত্র ছিল কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে। তার মোবাইল ফোন, যোগাযোগের সূত্র, বাংলাদেশে অবস্থানের উদ্দেশ্য এবং কারও সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না, সেসব তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, লাশটি সুরতহাল প্রস্তুত করার সময়ই মনে হয়েছিল এটি কোন বিদেশির লাশ হবে।
অপমৃত্যু মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশপুর থানার এসআই টিপু সুলতান বলেন, ভিকটিমের ভাই আমেরিকা প্রবাসী মোহাম্মদ ইরার সঙ্গে কথা হয়েছে মাসুদের মোবাইল নম্বর পেয়েছি। তদন্ত শুরু করেছি দেখি, কতদূর যাওয়া যায়।
তিনি আরো বলেন, সুরতহাল করার সময় লাশের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। এ জন্য ঠিক কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, সেটা জানার জন্য ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।