পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জ্বালানি তেল সরবরাহে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক হামলার শিকার হয়েছেন। এ সময় তার দায়িত্বরত দেহরক্ষী তৈবুল ইসলামকে মারধর করা হয় এবং তার অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ভাউলাগঞ্জ ইউনিয়নের জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। আহত দেহরক্ষীকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেল নিতে সকাল থেকেই ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন ছিল। তবে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক চালকের কাছে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফুয়েল কার্ড, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বা ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এতে বৈধ কাগজপত্র থাকা চালকরাও ঠিকমতো তেল পাচ্ছিলেন না এবং পরিস্থিতি ক্রমেই বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ইউএনওকে অবহিত করলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘোষণা দেন—যাদের কাছে ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র নেই, তারা যেন লাইন ত্যাগ করেন। এ সময় কাগজপত্র না থাকায় দুজন চালককে ৫০০ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।
এর পরপরই হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষুব্ধ কিছু ব্যক্তি মিছিল নিয়ে এসে ইউএনও ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দেহরক্ষীর ওপর চড়াও হয়ে তার সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। হামলায় দেহরক্ষী তৈবুল ইসলাম আহত হন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের সহায়তায় ইউএনও পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইউএনও সবুজ কুমার বসাক বলেন, পাম্পে বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের সরে যেতে বলি এবং দুজনকে জরিমানা করি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমার দেহরক্ষীর অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বর্তমানে আমার দেহরক্ষী চিকিৎসাধীন।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালেক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এটি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।