মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে পোশাক রপ্তানি খাতে ‘২০ শতাংশের মতো উৎপাদন খরচ বেড়ে’ যাওয়ার কথা বলেছেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি জ্বালানি বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বাস্তবে শিল্পকারখানায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ফিলিং স্টেশন থেকে কন্টেইনারে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানাগুলো বিপাকে পড়ছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। লোডশেডিং গড়ে ২-৩ ঘণ্টা, কোনো কোনো এলাকায় ৬-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত হচ্ছে, যা উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো রপ্তানি করা যাচ্ছে না তুলে ধরে তিনি বলেন, ফলে আকাশপথে পণ্য পরিবহন বা ছাড় দেওয়ার মতো অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে, ফলে ব্যয় আরও বাড়ছে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির প্রভাবও যুক্ত হয়েছে এতে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
তবে উৎপাদন খরচ বাড়লেও তা ক্রেতারা সমন্বয় করছেন না তুলে ধরে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, তবে ক্রেতাদের কাছ থেকে এই বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করা যাচ্ছে না, কারণ আগেই মূল্য নির্ধারিত থাকে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিচ্ছেন।
ঢাকায় আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এক্সিবিশন (বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬)। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) প্রাঙ্গণে এ মেলা চলবে ২ মে পর্যন্ত। প্রদর্শনীতে টেক্সটাইল মেশিনারি, ডাই ও কেমিক্যালস, নিটিং ও বয়ন প্রযুক্তি, এমব্রয়ডারি, কাটিং ও সেলাই যন্ত্র, ওয়াশিং ও ড্রাই ক্লিনিং প্রযুক্তিসহ আধুনিক সরঞ্জাম তুলে ধরা হবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিকেএমইএ ও ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। প্রায় ৩০টি দেশের এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেবে।
জ্বালানি সংকটসহ রপ্তানি আয় ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ ধরে বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি ও বিকেটিজি ২০২৬ এর আহ্বায়ক ফজলে শামীম এহসান বলেন, চলমান সংকটের মধ্যেও এ ধরনের আয়োজন বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করবে। নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।