প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রামের রাউজানে ফের অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক যুবদলকর্মী নিহত হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমশের পাড়া গ্রামের পূর্ব পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্পসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যুবদলকর্মী নাছির উদ্দীনকে (৪৫) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
গুলিবিদ্ধ নাছির উদ্দীন একই এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে। তার কোনো পদ-পদবীতে না থাকলেও স্থানীয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন।
এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিক উপজেলার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলিখিল গ্রামে কাউসারুজ্জামান (৩৬) নামের প্রবাসফেরত এক বিএনপি-সমর্থককে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার ৪৩ ঘণ্টার মাথায় আবার গুলির ঘটনায় আরেকজন আহত হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গুলির শব্দ শুনে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে নাছির উদ্দীনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানিয়েছেন, পাহাড় ও কৃষিজমি কেটে মাটির ব্যবসা এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তারা আরও জানান, এর গত বছরের ৩০ নভেম্বর প্রতিপক্ষরা নাছির উদ্দীনকে তার বাড়ির পাশে কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে ফিরে আসেন।
রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসাইন জানান, নাছির উদ্দীনের তলপেট ও পায়ে একাধিক গুলি লেগেছে। এতে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গেছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নাছিরকে রাউজান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন।
রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তিনি আরও জানান, আহত নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে।