রাজশাহীর বাগমারার অপহৃত দুই লিবিয়া প্রবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে রাজধানী ত্রিপোলির নিজেদের কক্ষ থেকে অপহরণ করা হয়েছিল তাদের। এ ঘটনায় মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাগমারা থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল।
জানা যায়, বাগমারা উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়নের বীরকুৎসা গ্রামের মৃত কছির উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) ও পার্শ্ববর্তি গোপিনাথপুর গ্রামের বাবলু হোসেন এর ছেলে জিসান (২২) প্রায় চার বছর আগে দালাল চক্রের মাধ্যমে লিবিয়া যায়।সেখান থেকে গত রমজান মাসে বাংলাদেশের মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের যোগসাজোশে লিবিয়ার একদল মাফিয়া তাদের কক্ষ থেকে রাজ্জাক ও জিসানসহ চারজন কে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অপহরণকারীরা রাজ্জাক ও জিসানের পরিবারের সঙ্গে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ২০ লাখ করে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এদিকে মাফিয়ারা ভিকটিমদের ওপর নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে দেয় । নির্যাতনের ভয়াবহতা দেখে উভয় পরিবার ২০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে চক্রের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠিয়ে দেয় । জিসানের পিতা বাবলু হোসেন জানান, দশ লাখ করে পাওয়ার পর আরো পাঁচ লাখ করে চায়।
এর মাঝে এ ঘটনায় রাজ্জাক এর স্ত্রী মুন্নি এবং জিসানের পিতা বাবলু হোসেন চলতি মাসের ১৫তারিখে বাগমারা থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান আসমি গ্রেপ্তারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে উপ-পরিদর্শক শিহাব উদ্দীন কালক্ষেপন না করে ওই দিনই অভিযান চালায়। সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও টাকা পাঠানোর প্রমাণাদির মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
এতে লিবিয়ায় অবস্থানরত অপহরণকারী চক্রের বাংলাদেশি সহযোগী ও টাকা পাঠানোর ব্যাংক হিসাবধারীসহ মোট ৩ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর উত্তরপাড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আল মামুন (৩৮), একই এলাকার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আব্দুল করিম (৪৭) এবং একই এলাকার দক্ষিণহাটি মৌটুপি এলাকার সিদ্দিক মিয়ার স্ত্রী পরিষ্কার বেগম (৫৫)।
গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা লিবিয়ায় অবস্থানরত চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এক পর্যায়ে মাফিয়ারা গত মঙ্গলবার অপহৃত দুইজনকে মুক্তি দেয়। মুক্ত করে তাদের লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলি-তে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে নিরাপদে পৌঁছে দেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগমারা থানার উপপরিদর্শক শিহাব উদ্দীন জানান, দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে আব্দুর রাজ্জাক ও জিসান নিরাপদে রয়েছেন। আমার সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। ফ্লাইট শিডিউল ঠিকঠাক হয়ে গেলে অচিরেই তারা দেশে ফিরবে।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, লিবিয়ায় অপহৃত দুইজন মুক্ত হয়েছে। অচিরেই তারা দেশে ফিরে আসবে।