এপ্রিল মাসে মবে বা গণপিটুনিতে ২১ জন নিহত হয়েছে। গত মার্চ মাসে মবে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ১৯। মবে আহত ব্যক্তির সংখ্যা এ মাসে ৪৯ জন। আগের মাসে ছিল ৩১ জন। এ মাসে মবের ঘটনা ঘটেছে ৪৯টি। আর মার্চে এ সংখ্যা ছিল ৩৬। বৃহস্পতিবার মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এমএসএফের তথ্যে- এ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একটি শিশু, দুজন কিশোর, ১২ জন নারী ও ৪১ জন পুরুষে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অল্পসংখ্যক ঘটনা ছাড়া সব কটি মরদেহের পরিচয় অজ্ঞাত থেকে যাচ্ছে।
এমএসএফের তথ্য বলছে, গত মার্চ মাসে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের সংখ্যা ছিল ৫৩। এসব অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের বেশির ভাগ নদী বা ডোবায় ভাসমান, মহাসড়ক বা সড়কের পাশে, সেতুর নিচে, রেললাইনের পাশে, ফসলি জমিতে ও পরিত্যক্ত স্থানে পাওয়া যাচ্ছে।
তথ্য বলছে, এপ্রিল মাসে ৩১২টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ সংখ্যা গত মাসের তুলনায় ২৩টি বেশি। এ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৫৪টি, দলবদ্ধ ধর্ষণ ১৪টি, ধর্ষণ ও হত্যা একটি। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ছয়জন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী। ধর্ষণের শিকার ৫৪ জনের মধ্যে ১৮টি শিশু ও ১৪ জন কিশোরী রয়েছে। অন্যদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে একটি শিশু, চারজন কিশোরী ও ৯ জন নারী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছে একজন কিশোর ও একজন নারী। ধর্ষণের চেষ্টা ২৩টি, যৌন হয়রানি ১৭টি, শারীরিক নির্যাতনের ৬৮টি ঘটনা ঘটেছে। এসিড নিক্ষেপে আক্রান্ত হয়েছেন একজন নারী।
এ মাসে পাঁচজন কিশোরী ও ২১ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। অপহরণের শিকার হয়েছেন দুই শিশু ও দুজন কিশোরী, অন্যদিকে একজন কিশোরী ও ৯ জন নারী নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে দুজন কিশোরী ও পাঁচজন নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ মোট ৮৯ শিশু, কিশোরী ও নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এটি গত মাসের তুলনায় ১৬টি বেশি। তাদের মধ্যে ১১টি শিশু ও ১২ জন কিশোরী রয়েছে।
এমএসএফ বলেছে, এ মাসে শিশু ধর্ষণের চেষ্টার একটি ঘটনা ও নারী ধর্ষণের চেষ্টার একটি ঘটনা সমাজপতিরা আপস করেছেন। প্রচলিত আইনকে অবজ্ঞা করে বে-আইনিভাবে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়েছে।