ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার মতবিনিময় সভায় হঠাৎ গিয়ে হাজির হন নির্বাহী হাকিম, যা দেখে চটে যান স্বতন্ত্র এ প্রার্থী। অভিযানে আসা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিমের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে দাঁড়ানো বিএনপির বহিষ্কার হওয়া এই নেতা। ক্ষিপ্ত হয়ে নির্বাহী হাকিমকে বৃদ্ধাঙ্গুলও দেখান তিনি। শনিবার বিকালে সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে মতবিনিময় সভা করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাহী হাকিম শাহরিয়ার হাসান খানের ভ্রাম্যমাণ আদালত রুমিন ফারহানাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে। পরে তার সমর্থক মো. জুয়েল জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে রুমিনের বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। এতে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বলতে শোনা যায়, এক্সকিউজ মি স্যার। দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্নিং ইউ।
এ সময় নির্বাহী হাকিম শাহরিয়ার হাসান বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেতো আমরা ব্যবস্থা নেব। রুমিন ফারহানা বলেন, সব জায়গায় হচ্ছে। পাশের একজন বলেন, আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় কিছু বলতে পারেন না। তখন রুমিন বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বলেন, এই রকম দেখায় আপনাদেরকে। প্রশাসনে বসে আছেন। খোঁজ নেন।
পাশের কর্মীদের সবাইকে চুপ থাকতে বলে রুমিন বলেন, আজকে শুনছি। আঙুল তুলে বলে গেলাম ভবিষ্যতে আর শুনব না। আমি যদি না বলি এখান থেকে বের হতে পারবেন না। বের হতে পারবেন না স্যার, মাথায় রাখবেন। আমি রুমিন ফারহানা, কোনো দল লাগে না।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনকারী নির্বাহী হাকিম শাহরিয়ার হাসান খান বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে বিধায় ওনাকে (রুমিন ফারহানা) চলে যেতে বলা হয়। উনি যাওয়ার সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবু বকর সরকার বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি ২০২৫ এর ১৮ এর ধারায় একজনকে জরিমানা করে আদায় করা হয়।
এ বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, যারা বড় দলের প্রার্থী তারা মঞ্চ বানায়, মাইক ব্যবহার করে অথচ তাদের কিছুই হয় না। আর আমি কিছুই করি না। হাত মাইকে কথা বলি আমার কাছে প্রশাসন চলে আসে। আমার সাথে কেউ নাই কিন্তু হাজার হাজার মানুষ আছে। আমি আশা করব এ নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ আচরণ করবে। পক্ষ হয়ে কিছু করবে না।
বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনকে আমি কেন বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাবো। আশুগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব তিনি স্টেজে দাঁড়িয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ির সামনে রেখে স্টেজে নেতাকর্মীদের সামনে বক্তৃতায় বলেছেন, ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের কচু করতে পারবে। আমি সেটিই ওনাকে (ম্যাজিস্ট্রেট) মনে করিয়ে দিয়েছিলাম। তখনতো আপনি কোনো ব্যবস্থা নেন নাই। তাহলে আমার এখানে কেন এভাবে এই আচরণ করছেন। তারপর তিনি তার ক্ষমতা দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে নিয়ে গেছেন।
সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম