শ্রমিকের লভ্যাংশ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ-ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিফিকেশন ফান্ড) ৫ শতাংশ বকেয়া আদায়ের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জিপি হাউসের সামনে শুরু হয় এ মানববন্ধন। ‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে অর্ধশতাধিক কর্মী এতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, তারা কেউ কেউ ১৫ থেকে ২০ বছর গ্রামীণফোনে চাকরি করেছেন। একেক সময় একেকজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কিন্তু নিয়মানুযায়ী বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। তাঁরা বলেন, এই লড়াইয়ের সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার ৩৬০টি পরিবার এবং হাজারো শ্রমিকের বহু বছরের বঞ্চনা জড়িয়ে আছে। এর মধ্যে অনেকে মারাও গেছেন।
মানববন্ধনকারীরা বলেন, ১৫-২০ বছর আমরা জিপিতে শ্রম দিয়েছি। এরপর যখন আমাদের বয়স চল্লিশের বেশি, তখন আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই বয়সে অন্য কোথাও চাকরিতে যোগদানের সুযোগও কম থাকে। জিপি আমাদের ন্যায্য পাওনাও মেটায়নি। আমাদের দাবি ৫ শতাংশ বিলম্ব জরিমানা পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হোক।
কর্মীরা বলেন, আদালতের নির্দেশনা ও শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী ৫ শতাংশ লভ্যাংশ তহবিলের বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। করপোরেট স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের আন্দোলন চলবে বলে জানান মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক কর্মীরা।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহ্বায়ক আবু সাদাত মো. শোয়েব। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করছি। ১৫ বছর ধরে আমাদের দাবি আদায়ে আমরা লড়ছি। আইনগত ৫ শতাংশ ডব্লিউপিপিএফ ও ডব্লিউডব্লিউএফ বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে শ্রম মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আদালতের নির্দেশনার আলোকে শান্তিপূর্ণ লড়াই করে আসছি আমরা। গ্রামীণফোন মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের দমন করার চেষ্টা করছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আদিবা জেরিন বলেন, ইউনয়ন করার কারণে ২০১২ সালে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। যা বাংলাদেশ শ্রম আইন ১৮৬ ধারার লঙ্ঘন। সে সময় দুই শতাধিক কর্মীকে ইমেইলের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করা হয়। ইউনিয়নের নিবন্ধন আবেদন ২৩ জুলাই শ্রম অফিসে জমা দিই। বিষয়টা জানতে পেরে তার পরদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমাদের ইমেইলের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করে। তাদের ফোন করে আবার বলা হয়, তারা স্বেচ্ছায় রিজাইন করলে টারমিনেশন লেটার উইথড্র করা হবে। নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং বলা হয়, স্বেচ্ছায় রিজাইন না করলে প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ এ ধরনের সুবিধাগুলো আটকে দেওয়া হবে। সেই সময় তিনজন বাদে সবাই রিজাইন করতে বাধ্য হয়। আদিবা জেরিন জানান, তিনিসহ তখন তিনজন গ্রামীণফোনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। সেই মামলা এখনো চলমান।
তবে এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে এখনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।