দেশের নাগরিকের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বে-আইনি এবং আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারিপতি আব্দুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ।
রুলে সরকারকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এক মাসের মধ্যে একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী জানান, এই কমিটি সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেবেন এবং তিন মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে।
স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে রুলের জবাবও দিতে বলেছেন আদালত।
রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১৫, ১৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হলেও বাস্তবে তা ‘কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়নি’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক আর্থিক দুর্ভোগ ছাড়াই প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।
সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩২ সালের মধ্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও এর বাস্তব অগ্রগতি ‘অত্যন্ত সীমিত’ বলে রিট আবেদনে দাবি করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ মোট বাজেট ও জিডিপির তুলনায় অত্যন্ত কম এবং বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। এছাড়া দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের সংখ্যা ২০০০:১ এবং নার্সের সংখ্যা ৫০০০:১, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুতর সংকটের চিত্র তুলে ধরে।
আবেদনে আরও বলা হয়, কার্যকরভাবে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন করা গেলে রোগ-ব্যাধির প্রকোপ কমবে, জনগণের আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে এবং সংবিধানপ্রদত্ত জীবনাধিকার বাস্তব অর্থে নিশ্চিত হবে।
