ছবি : সুরুজ কাজী (সংগৃহীত)
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে সুরুজ সুরুজ কাজী নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুর খবর এলে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। মাদারীপুরে তার গ্রামের বাড়িতে বাবা, মা ও স্বজনদের মাতম চলছে। নিহত সুরুজ কাজী (২৫) মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খাগছাড়া গ্রামের সাহাবুদ্দিন কাজীর ছেলে।
নিহতের পরিবার জানায়, ৯ মাস আগে প্রতিবেশী এলেন মাতুব্বরের ছেলে দুলু মাতুব্বরের মাধ্যমে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পৌঁছায় সুরুজ। সেখান গিয়ে ৮০ হাজার টাকায় একটি কোম্পানিতে কাজ করেন তিনি। পরবর্তীতে চলতি মাসে দালালদের প্রলোভনে বেশি বেতনে রুশ সেনাদের সঙ্গে ইউক্রেনের বিপক্ষে যুদ্ধে যোগ দেন। বাবুর্চি হিসেবে সুরুজ যুদ্ধরত একটি ক্যাম্পে রান্না করতেন। সেই ক্যাম্পে সম্প্রতি ইউক্রেনের নিক্ষেপ করা মাইন বিস্ফোরণে সুরুজ নিহত হন। প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখা হলেও রাশিয়ায় অবস্থানরত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী যুবক মোবাইল ফোনে সুরুজের পরিবারকে জানান মৃত্যুর খবর। এ ঘটনায় দালালদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এদিকে ঘটনার পর পলাতক অভিযুক্ত দালাল দুলু মাতুব্বর ও তার সহযোগীরা।
নিহতের বাবা সাহাবুদ্দিন কাজী বলেন, আমার বড় ছেলে এভাবে মারা যাবে এটি কল্পনাও করতে পারিনি। আমি দালালদের বিচার চাই। আর দ্রুত আমার ছেলের লাশ ফেরত চাই।
সুরুজের বড় বোন শারমিন আক্তার বলেন, আমাদের ভাই সবাইকে কাঁদিয়ে এভাবে চলে যাবে বুঝতে পারিনি। বিদেশে যেতে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু দালাল চক্রের প্রলোভনে আমার ভাই বিদেশে পাড়ি জমায়। শেষমেশ যুদ্ধে যোগ দিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। সরকারের কাছে আকুতি ও মিনতি করছি আমার ভাইয়ের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করুক।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান বলেন, রাশিয়ায় যুদ্ধে যুবক সুরুজ কাজী নিহতের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
