ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শেষ, চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৫৭ minutes ago

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠকক লকাতার নিউটাউনে অনুষ্ঠিত হল। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার আগেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। তবে চুক্তির নবায়ন বা নতুন কাঠামো নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি দুই দেশের প্রতিনিধিদের কেউই।

শুক্রবার বিকেলে কলকাতার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বৈঠক শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শেষ হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের কেউ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন কিংবা নতুন করে চুক্তি করা নিয়ে মুখ খোলেননি।

এর আগে বৃহস্পতিবার ফরাক্কা ব্যারাজ এলাকায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা গঙ্গার জলপ্রবাহ নিয়ে যৌথ পর্যবেক্ষণ করেন। বেনিয়া গ্রামের ঘাটপাড়া মেলা গ্রাউন্ড সংলগ্ন অফিস থেকে মূল স্রোত, ফরাক্কা ব্যারাজের পানি, ভাগীরথী ও পদ্মা নদীর জলপ্রবাহ ওয়াটারশেড পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে ফিডার ক্যানালেও জলপ্রবাহের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। ভারতীয় প্রতিনিধিদল এ কার্যক্রমকে ‘রুটিন অবজারভেশন’ বলে উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মহম্মদ আনোয়ার কাদীর। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন, মো. আবু সৈয়দ, মো. শামসুজ্জামান, মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ ও মো. রুমানুজ্জামান। কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন দিল্লিতে বাংলাদেশের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ। ভারতের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী।

সূত্রের দাবি, বৈঠকে গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়ন বা নতুন প্রস্তাবের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট।

বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, ফরাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেয়। প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পায় ৪০ হাজার কিউসেক, বাকি পানির অংশ বাংলাদেশ পায়।

কূটনৈতিক মহলের মতে, গঙ্গা পানি চুক্তির পুনর্নবীকরণ শুধু জলবণ্টনের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। পদ্মার নাব্যতা, পশ্চিমবঙ্গের নদীভাঙন, কলকাতা বন্দরের কার্যকারিতা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জলপ্রবাহ— সব মিলিয়ে আলোচনাটি দুই দেশের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে।

  • বাংলাদেশ
  • বৈঠক
  • ভারত
  • যৌথ নদী কমিশন