ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও ব্যবধান ৬১ ধাপ। কিন্তু সেই কেপ ভার্দেই বিশ্বকাপের মঞ্চে রুখে দিল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে ০-০ গোলে আটকে দিয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট তুলে নেয় আফ্রিকার এ দলটি। একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম গোলশূন্য ম্যাচেরও সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব।
পুরো ম্যাচে ৭৪ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল স্পেনের। তারা ২৩টি শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। বিপরীতে কেপ ভার্দে ৬টি শট নিলেও গোলমুখে রাখতে পেরেছিল মাত্র একটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয় কেপ ভার্দের সুশৃঙ্খল রক্ষণ আর গোলরক্ষক ভোজিনহার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। তবে ৪-৪-২ ছকে রক্ষণ সাজিয়ে কেপ ভার্দে মাঝমাঠ পর্যন্ত নেমে এসে প্রায় ছয়জনের প্রতিরক্ষা দেয়াল গড়ে তোলে। লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসকে শুরুর একাদশে না রাখার প্রভাবও স্পষ্ট ছিল স্প্যানিশ আক্রমণে। ডান-বাম প্রান্তে গতি ও সৃজনশীলতার অভাবে বারবার পাশ বদল করেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা।
উল্টো প্রথম দশম মিনিটেই কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে উঠে স্পেনকে সতর্ক করে দেয় কেপ ভার্দে। সপ্তম মিনিটে স্টিভেন মোরেইরার পাস থেকে জোভানে কাবরাল সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ১২ মিনিটে মারকোস ইয়োরেন্তের দারুণ ক্রস থেকে মিকেল ওইয়ারসাবালের সামনে সুযোগ তৈরি হলেও পিকো লোপেস অসাধারণ ক্লিয়ারিং হেডে বিপদ কাটিয়ে দেন।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে আক্রমণের গতি বাড়ায় স্পেন। ১৬ মিনিটে কেপ ভার্দের ভুল পাস থেকে পাওয়া সুযোগে পেদ্রির শট সহজেই রুখে দেন ভোজিনহা। ২৯ মিনিটে গাভির জোরালো শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। অন্যদিকে ৩৫ মিনিটে রদ্রির ভুলে বল পেয়ে দূরপাল্লার শটে স্পেনকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করেন ডেইলন লিভরামেন্তো, তবে শটটি যথেষ্ট জোর না পাওয়ায় রক্ষা পায় লা রোহা।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচের সেরা সুযোগগুলো তৈরি করে স্পেন। ৩৭ মিনিটে পেদ্রির দুর্দান্ত ভলিতে ভোজিনহাকে অসাধারণ সেভ করতে হয়। দুই মিনিট পর রদ্রির নিখুঁত লম্বা পাস থেকে কুকুরেইয়া বল নামিয়ে দেন ফেরান তোরেসের জন্য। প্রায় নিশ্চিত গোলের সুযোগে তোরেসের শট সজোরে আঘাত হানে ক্রসবারে। ফিরতি বলে ওইয়ারসাবালের লুপিং হেডও চমৎকার দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন ভোজিনহা। অতিরিক্ত সময়েও আয়মেরিক লাপোর্তের হেড ঠেকিয়ে গোলশূন্য সমতা বজায় রাখেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক।
বিরতির পরও একই চিত্র। বলের দখল স্পেনের, আর ধৈর্য ও শৃঙ্খলা ধরে রেখে রক্ষণ সামলাচ্ছে কেপ ভার্দে। ৫৬ মিনিটে পেদ্রির পাস থেকে ফাবিয়ান রুইজের হেড সহজেই তালুবন্দি করেন ভোজিনহা। ৬১ মিনিটে একসঙ্গে তিন পরিবর্তন এনে দলকে আরও সতেজ করে কেপ ভার্দে।
ম্যাচের ৭১ মিনিটে আক্রমণে গতি আনতে গাভি ও ফাবিয়ান রুইজের বদলে লামিন ইয়ামাল ও মিকেল মেরিনোকে নামান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মাঠে নেমেই ইয়ামাল কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ে তোলেন। ৭৩ মিনিটে তার দারুণ দৌড় থেকে তৈরি সুযোগে মেরিনোর শট সহজেই ধরে ফেলেন ভোজিনহা। এরপর ৭৭ মিনিটে পেদ্রির শট বোরজেস শরীর ছুঁড়ে ব্লক করেন, আর ৭৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় আরকানজো হেডে ক্লিয়ার করে আরেকটি বিপদ কাটান।
৮১ মিনিটে ফেরান তোরেসের জায়গায় দানি ওলমোকে নামিয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেনি স্পেন। ৮৩ মিনিটে ইয়ামালের ক্রস থেকে মেরিনোর হেডে বল পেয়ে কুকুরেইয়া চেষ্টা করলেও সেটিও নিরাপদে ধরে ফেলেন ভোজিনহা।
শেষদিকে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। ৮৮ মিনিটে দানি ওলমোর পাস থেকে ওইয়ারসাবাল প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন, কিন্তু অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগী ডিফেন্ডিংয়ে নিজের শরীর ছুড়ে দিয়ে পিকো লোপেস বলটি ব্লক করেন। পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পায় কেপ ভার্দে। দেরয় দুয়ার্তের তৈরি করা আক্রমণ থেকে পাওয়া কর্নারে বোরজেসের হেড অবশ্য সোজা চলে যায় উনাই সিমনের হাতে।
যোগ করা সময়েও হাল ছাড়েনি স্পেন। ৯০+৫ মিনিটে ইয়ামালের ক্রস থেকে কর্নার আদায় করে তারা। শেষ মুহূর্তে সেই কর্নার থেকে ওইয়ারসাবালের ফ্লিক কাউকে খুঁজে না পেয়ে গোললাইনের বাইরে চলে গেলে উল্লাসে ফেটে পড়ে কেপ ভার্দের শিবির।
