দেশে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ব্যাংক খাতে কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ব্যাংকে এক কোটি টাকা বা এর বেশি আমানত রয়েছে এমন হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে নতুন করে দুই হাজার ৪৪১টি কোটি টাকার হিসাব যুক্ত হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়। কোটিপতি আমানতকারীর হিসাবের মধ্যে যেমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তেমনই বিভিন্ন ব্যক্তিও রয়েছেন। আবার একই ব্যক্তির একাধিক কোটি টাকার বেশি হিসাবও রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি হিসাবকেই আলাদাভাবে শনাক্ত করে।
প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ-তিন মাসে ব্যাংক খাতে আমানত প্রবাহ বেড়েছে ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর আগের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বেড়েছিল ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে আমানত প্রবাহ তুলনামূলকভাবে কম বেড়েছে। তবে এক বছর আগে অর্থাৎ গত বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় কিছুটা বেশি বেড়েছে। ওই প্রান্তিকে আমানত বেড়েছিল ২ দশমিক ১১ শতাংশ। ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় মার্চ প্রান্তিকে গ্রামে যেমন আমানত প্রবাহ কমেছে, তেমনই কমেছে শহরেও। যে কারণে সার্বিকভাবে আমানতের প্রবৃদ্ধির হার কমেছে।
প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, আমানতের প্রবৃদ্ধির হার কমার পরও দেশে কোটিপতি আমানতকারীর হিসাবসংখ্যা বেড়েছে। সার্বিকভাবে কোটিপতি আমানতকারী বাড়লেও কিছু উপখাতে কোটিপতির সংখ্যা কমেছে। ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত স্থিতির কোটিপতি আমানতকারী হিসাব গত ডিসেম্বরে ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৪৯৪টি। মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৫০টি। ৫ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা জমার স্থিতি রয়েছে এমন আমানতকারীর হিসাব গত ডিসেম্বরে ছিল ১৪ হাজার ৮৫২টি। মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩১৫টিতে। ১০ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা জমা পর্যন্ত আমানতকারীর হিসাব গত ডিসেম্বরে ছিল ৪ হাজার ৭৯৮টি। মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৩৪টিতে। ১৫ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা আমানতকারীর হিসাব সংখ্যা গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ২ হাজার ১৯৪টি। মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯টিতে। ২০ কোটি থেকে ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা আমানতকারীর হিসাব গত ডিসেম্বরে ছিল ১ হাজার ৩৮০টি। মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭০টিতে। ২৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা আমানতকারীর হিসাব ডিসেম্বরে ছিল ৯৪৭টি। মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯১৪টি। ৩০ কোটি থেকে ৩৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা হিসাবে একই সময়ে আমানতকারীর সংখ্যা ৬৩৬টি থেকে বেড়ে ৬৫১টিতে দাঁড়িয়েছে। ৩৫ কোটি থেকে ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা আমানতকারীর হিসাব ডিসেম্বরে ছিল ৪৫৬টি। মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩০টি। ৪০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা আমানত জমা রয়েছে এমন হিসাবসংখ্যা গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ৭৯০টি। মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫৩টিতে। ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন হিসাব সংখ্যা গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ১ হাজার ৯৯৭টি। মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৪টিতে।
৫০ কোটি টাকার বেশি জমা-এমন কোটিপতিদের আমানত ব্যাংক খাতে মোট আমানতের মধ্যে ১২ দশমিক ২২ শতাংশ, যা একক উপখাত হিসাবে সর্বোচ্চ। এর পরেই রয়েছে ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা আমানতকারীদের অবস্থান। তাদের আমানত মোট আমানতের ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
