রোনালদোদের হতাশ করে বিশ্বকাপে অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন ডিআর কঙ্গোর

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের থামিয়ে বিশ্বকাপে অভাবনীয়  প্রত্যাবর্তন করেছে ডিআর কঙ্গো। জোয়াও নেভেসের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ইয়োয়ানে উইসার হেডে সমতায় ফিরে পর্তুগালের বিপক্ষে ড্র করেছে আফ্রিকার দলটি। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মূল্যবান এক পয়েন্ট তুলে নিল তারা। হিউস্টনে বুধবার  ম্যাচটি শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল পর্তুগালের। ষষ্ঠ মিনিটে বাম দিক থেকে পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন জোয়াও নেভেস। পাঁচ ডিফেন্ডারের মাঝেও ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিয়ে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন তরুণ মিডফিল্ডার।

গোলের পরও পর্তুগাল বলের দখলে আধিপত্য বজায় রাখে। ১৮ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের চমৎকার পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন নুনো মেন্দেস, তবে অ্যারন ওয়ান-বিসাকার নিখুঁত ট্যাকলে রক্ষা পায় ডিআর কঙ্গো। ফিরতি বলে ব্রুনোর শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

শুরুতে চাপে থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ১১ মিনিটে সেড্রিক বাকাম্বুর প্রচেষ্টা প্রতিহত হওয়ার পর ইয়োয়ানে উইসার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। পরে বাকাম্বু একাধিকবার পর্তুগালের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে পর্তুগাল বেশ কয়েকবার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে লক্ষ্য করে নিচু ক্রস খেললেও শেষ স্পর্শের অভাবে ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো ধৈর্য ধরে রক্ষণ সামলে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ওঠে।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে তাদের সাহসী ফুটবলের পুরস্কারও মেলে। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে শর্ট কর্নার থেকে আর্থার মাসুয়াকুর ক্রসে পেছনের পোস্টে ফাঁকায় থাকা ইয়োয়ানে উইসা হেডে বল জালে জড়ান। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এটিই ছিল ডিআর কঙ্গোর প্রথম গোল, যা দলকে বিরতির আগে ১-১ সমতায় ফেরায়।

বিরতির পর বের্নার্দো সিলভার বদলে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওকে নামিয়ে আক্রমণে নতুন মাত্রা আনার চেষ্টা করেন মার্তিনেজ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে প্রত্যাশিত ছন্দ খুঁজে পায়নি পর্তুগাল।

৫০ মিনিটে বাকাম্বুর শট দিয়োগো কোস্তা ঠেকালেও পরে অফসাইডের পতাকা ওঠে। ৫৫ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলোর দুর্দান্ত ভলি জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।

এরপর ম্যাচে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ডিআর কঙ্গো। ৫৭ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বাকাম্বুর শট পোস্টে আঘাত করলেও ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে রক্ষা পায় পর্তুগাল।

৭০ মিনিটে পেদ্রো নেতোর জায়গায় রাফায়েল লেয়াওকে নামানো হয়। চার মিনিট পর লেয়াও, ব্রুনো ও কনসেইসাওর সমন্বয়ে তৈরি সুযোগ থেকে রোনালদো শট নিলেও তুয়ানজেবের চাপে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি।

৭৬ মিনিটে সাদিকির পাস থেকে উইসা প্রায় একা হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ইন্টারসেপশন করে বিপদমুক্ত করেন তোমাস আরাউজো। পরের মিনিটেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে বাকাম্বু অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।

ম্যাচের শেষ দিকে জয়ের জন্য আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে পর্তুগাল। ৮৩ মিনিটে ভিতিনিয়ার বদলে গনসালো রামোসকে নামিয়ে দুই স্ট্রাইকারে খেলার চেষ্টা করেন মার্তিনেজ। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর সংগঠিত রক্ষণভাগ কোনো সুযোগই সহজে দেয়নি।

শেষ দিকে ব্রুনো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শট এবং ক্যানসেলোর কয়েকটি ক্রস থেকেও গোল বের করতে পারেনি ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে বারবার পর্তুগালের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন।

শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী পর্তুগালকে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়ে ডিআর কঙ্গো। আর শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করা পর্তুগালকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় হতাশাজনক এক ড্র নিয়ে।

  • কঙ্গো
  • পর্তুগান
  • বিশ্বকাপ