প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রামের পৃথক দুটি স্থানে সেপটিক ট্যাংকে নামার পর বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে নগরীর ডবলমুরিং থানার ধনিয়ালাপাড়া এবং জেলার রাউজান উপজেলায় এ দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটি পাড়ায় রতন ডাক্তারের নির্মাণাধীন বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে মারা যান দুই নির্মাণশ্রমিক।
নিহতরা হলেন রাউজানের কচুখাইন এলাকার প্রদীপ দাশ ও বোয়ালখালীর কদুরখিল এলাকার সমীরণ দাশ।
স্থানীয়রা জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রদীপ সেপটিক ট্যাংকে নামার পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ট্যাংকে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে ট্যাংকের ভেতরে নামেন সমীরণ। তিনিও গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, দুপুরে নগরীর ডবলমুরিং থানার ধনিয়ালাপাড়া এলাকার লাকী ম্যানশনে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে আরও দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন সাকিব ও হৃদয়।
ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী এক শ্রমিক বলেন, বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সাকিব ট্যাংকে নামে। কিছুক্ষণ পর সে ভেতরে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। তখন তাকে উদ্ধার করতে হৃদয় ভাই ভেতরে নামেন। উনিও একইভাবে পড়ে গেলে কোমরে রশি বেঁধে আমি নামি। কিন্তু কিছুদূর নামার পরই গ্যাসের তীব্র গন্ধে আমার দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা হলে ওপর থেকে বাকিরা আমাকে টেনে তোলেন। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে তাদের উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম বলেন, দুপুরে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় সেপটিক ট্যাংকিতে নেমে কাজ করার সময় ভেতরে আটকা পড়েন ওই দুই শ্রমিক। সেখানে বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাস বন্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
ফায়ার সার্ভিসের রাউজান স্টেশনের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি এবং তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পাঠাই। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
