জুলাই শহীদ সন্তানের অনুদানের টাকায় বাবার দ্বিতীয় বিয়ে!

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ শাহরিয়ারের বাবা আব্দুল মতিনের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে এবং ছেলের নামে পাওয়া বেসরকারিভাবে বিভিন্ন অনুদানের অর্থে বিয়ে করেছেন আব্দুল মতিন। তবে তার দাবি, নিজের উপার্জনের অর্থেই এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।

জানা যায়, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশসন গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন ও মমতাজ বেগম ২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। গত বছরের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হন তাদের একমাত্রা ছেলে শাহরিয়ার। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তার মৃত্যু হয়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি যখন শোকগ্রস্ত, ঠিক তখনই এই দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হলো।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের দাবি, গত ২৯ মে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন সাত লাখ টাকা কাবিন এবং প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন করেন।

শহীদ শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম বলেন, সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আমার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আমি কখনই এই বিয়ের অনুমতি দেইনি। সোয়া পাঁচ লাখ টাকার গহনা কেনার মতো আর্থিক সক্ষমতা তার ছিল না। শহীদ ছেলের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের অর্থই এ বিয়ে করেছেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী শহীদ ছেলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্থ সংগ্রহ করছেন। এমনকি স্বাক্ষর জাল করে শহীদ পরিবারের জন্য ঘোষিত এককালীন ৩০ লাখ টাকার সরকারি সহায়তা তোলারও চেষ্টা করেছিলেন, যা পরে ব্যর্থ হয়।

মমতাজ বেগম বলেন, আমি ২২ বছর সংসার করেছি। দুই স্ত্রী নিয়ে সংসার চালানোর সামর্থ্য তার নেই। এখন আমার একটাই চাওয়া- আমার মেয়েটা যেন নিরাপদে বড় হতে পারে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, আমার মায়ের অনুরোধ এবং বংশ রক্ষার প্রয়োজন থেকেই আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। প্রথম স্ত্রীকে জানিয়েই সব করা হয়েছে, এখন তিনি তা অস্বীকার করছেন।

নিজেকে ‘আলফা গ্রুপ’ এর মতিঝিল শাখার সেলস ম্যানেজার দাবি করে তিনি বলেন, নিজের আয়ে বিয়ে করার সক্ষমতা তার রয়েছে এবং ছেলের অনুদানের টাকা ব্যবহারের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।

এদিকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জুলাইযোদ্ধা রুহুল আমিন রিপন বলেন, একজন জুলাই শহীদের বাবার কাছ থেকে এমন আচরণ কেউ প্রত্যাশা করে না। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, বিষয়টি শুনেছি। একজন শহীদের বাবার এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কঠিন। তাদের একটি মেয়েও রয়েছে। চাইলে সেই সন্তানকে নিয়েই তিনি সংসার চালিয়ে যেতে পারতেন।

 

  • অনুদান
  • জুলাই শহীদ
  • টাকা
  • বিয়ে
  • সন্তান