হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে এক দিনে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৭৫ জনে। এদিকে উদ্বেগজনক হারে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বাধ্যতামূলকসহ চিকিৎসায় পাঁচটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে দুই জনের। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৯ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে— তিনজন করে।
এতে বলা হয়, দেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৪ জন। মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৫৬ হাজার ৫৮৬ জন।
এ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৭৩ জন। মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯২৯ জনে। হামে আক্রান্ত সন্দেহে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৩ হাজার ৯৮৩ জন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়া পেয়েছে মোট ৪০ হাজার ৯০ রোগী।
এদিকে, হাম রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বাধ্যতামূলকসহ সরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসায় পাঁচটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা কেবিন চালু করতে হবে। আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে হবে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন সকাল ও বিকালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রাউন্ড দিতে হবে।
রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি অভিভাবক বা দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভর্তি রোগীদের তথ্য প্রতিদিন এমআইএস সার্ভারে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় আলাদা ওয়ার্ড চালু ও আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদার করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এতে হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণ কমানো সহজ হবে।
