ছবি: মুমতা হেনা মীম
মুমতা হেনা মীম সমকালীন তরুণ প্রজন্মের একজন সম্ভাবনাময় কবি, লেখক এবং প্রাবন্ধিক। কবিতা লেখার পাশাপাশি তিনি শিল্পসমালোচনা, সমসাময়িক সামাজ-পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং নাগরিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সক্রিয়। তার একটি বহুল সমাদৃত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘উপাখ্যান’। তার কবিতায় সমসাময়িক সামাজিক জীবন, মানবীয় সম্পর্কের নানা মনস্তাত্ত্বিক পরিপ্রক্ষিত এবং গভীর জীবনবোধের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। সহজ অথচ প্রাঞ্জল ভাষায় তিনি চারপাশের চেনা জগৎকে কবিতার ফ্রেমে বাঁধতে পছন্দ করেন। কবিতাচর্চার পাশাপাশি মুমতা হেনা মীম বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালে নিয়মিত ফিচার, কলাম এবং প্রবন্ধ লিখে থাকেন। তিনি শিল্প-সংস্কৃতির একজন বোদ্ধা পাঠক ও সমলোচক। বিশেষ করে বাংলাদেশের চিত্রকলা, মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আঁকা বিভিন্ন শিল্পীর ক্যানভাস ও রঙ-তুলির কাজের ওপর তার চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী কলাম রয়েছে। সমসাময়িক বিভিন্ন সামাজিক অধিকার এবং সাম্প্রতিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রবন্ধও তিনি নিয়মিত প্রকাশ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি রাবি বন্ধুসভার মতো বিভিন্ন প্রগতিশীল প্ল্যাটফর্মের দায়িত্বশীল পদে থেকে তরুণদের সাহিত্য ও সামাজিক কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছেন। কবি ও লেখক হিসেবে মুমতা হেনা মীম তাঁর সৃষ্টিশীল লেখনি এবং চিন্তাশীল কলামের মাধ্যমে সমকালীন তরুণসমাজে নিজের একটি নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করতে পেরেছেন। পুরাতন নোট কয়েন কালেকশনে তার আগ্রহ অশেষ। জনকল্যাণমূলক কার্যাবলি এবং অসহায়-বিপদগ্রস্ত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনি এক বিশেষ পরিচিত মুখ।
যথাসময়: আপনি একইসঙ্গে কবিতা, কথাসাহিত্য এবং ভ্রমণকাহিনী লিখছেন, আবার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনাও সামলাচ্ছেন। এই ভিন্ন ভিন্ন সত্তাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কীভাবে করেন? লেখার অনুপ্রেরণাটা আসে কোথা থেকে?
মুমতা হেনা মীম: আমি আসলে এগুলোকে আলাদা কোনো সত্তা বলে দেখি না। আমার কাছে জীবনটাই এক চলমান সাহিত্য—যেখানে প্রতিদিনই নতুন চরিত্র আসে, নতুন দৃশ্য তৈরি হয়; কখনো তা কবিতা হয়ে ধরা দেয়, কখনো কথাসাহিত্য, কখনো ভ্রমণকাহিনী। বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে মানুষের ভেতরের জটিলতা ও বহুমাত্রিক জীবনবোধ চিনতে শেখায়, আর সাহিত্য আমাকে সেগুলো ভাষায় রূপ দিতে সাহায্য করে। আমার অনুপ্রেরণা খুব সাধারণ কিছু জায়গা থেকেও আসে পুরোনো বাড়ির বারান্দা, বৃষ্টির দুপুর, স্টেশনের অপেক্ষা, পুরোনো শহরের গলি, কিংবা একটি ল্যান্ড ফোনের নীরবতা থেকেও। কখনো কখনো আমার মনে হয়, মানুষের জীবনও আসলে কবিতার মতন আবেগময়, গভীরভাবে সুন্দর। আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘উপাখ্যান’–এর উৎসর্গেই লিখেছিলাম- ‘উৎসর্গ আমি তাকেই করছি, যার জীবন কবিতার মতোন, যে কেবলি মায়ায় বাঁধে।’ সম্ভবত সেই ‘মায়া’ থেকেই আমার লেখার জন্ম।
যথাসময়: একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার চারপাশের পরিবেশ, রাজনীতি বা সমকালীন তরুণদের মানসিকতা আপনার লেখায় কতটুকু প্রভাব ফেলে?
মুমতা হেনা মীম: খুব গভীরভাবে ফেলে। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটা সমাজের ক্ষুদ্র প্রতিরূপ। এখানে প্রতিনিয়ত একই সঙ্গে স্বপ্ন, হতাশা, প্রেম, মতাদর্শ, বিভাজন এবং বেঁচে থাকার লড়াই দেখা যায়। আমার মনে হয়, আমাদের প্রজন্ম খুব দ্রুত এগোচ্ছে, কিন্তু একই সঙ্গে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের নিঃসঙ্গতাও বহন করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যত সংযুক্ত, বাস্তবে হয়তো ততটাই বিচ্ছিন্ন। এই অদ্ভুত বৈপরীত্য আমাকে ভাবায়। তবে আমি কেবল রাজনৈতিক বাস্তবতা নয়, মানুষের অন্তর্জগত নিয়েও বেশি আগ্রহী। মানুষ কীভাবে ভালোবাসে, কীভাবে ভাঙে, কীভাবে নীরবে বেঁচে থাকে, এসবই আমাকে আকর্ষণ করে।
যথাসময়: কবিতা যদি হয় আবেগের ঘনীভূত ও সংক্ষিপ্ত রূপায়ন, তাহলে কথাসাহিত্যকে বলা যেতে পারে বিস্তারিত ক্যানভাস। নিজের ভেতরের ভাব প্রকাশের জন্য কোন মাধ্যমটিতে স্বাধীন ও স্বচ্ছন্দ বোধ করেন এবং কেন?
মুমতা হেনা মীম: কখনো কখনো আমার মনে হয়, কবিতা জীবনের সবচেয়ে অন্তরঙ্গ ভাষা। মানুষের জীবনও অনেকটা কবিতার মতো অল্প শব্দে অনেক না বলা কথা বহন করে। সেই জায়গা থেকে কবিতাই আমাকে বেশি টানে। কারণ কবিতা হঠাৎ আসে একটি অনুভূতির বিস্ফোরণের মতো। আর গল্প? আমার কাছে গল্প অনেক বেশি পরিণত এক শিল্প। আমি প্রায়ই ভাবি, কবিতা অনেকটাই আবেগ থেকে জন্ম নেয়, কিন্তু কথাসাহিত্য আসে অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ জীবনবোধ থেকে। বহু কবি-কথাসাহিত্যিকের জীবন দেখলে বোঝা যায় অল্প বয়সে তারা অসাধারণ কবিতা লিখেছেন, কিন্তু জীবনের অনেকটা পথ অতিক্রম করার পর কথাসাহিত্যে গভীরতা পেয়েছেন। সেই হিসেবে আমি মনে করি, কথাসাহিত্যে প্রকৃত উৎকর্ষতা অর্জনের জন্য আমার আরও সময় প্রয়োজন। কারণ আমি এখনো নিজেকে কিশোরীই ভাবি , আর কৈশোর তো মূলত আবেগপ্রবণ সময়! সেই দিক থেকে কবিতাই এখন আমাকে বেশি টানে, হাহাহা।
যথাসময়: আপনার কথাসাহিত্যের চরিত্রগুলো কি আপনার বাস্তব জীবনের চেনা কোনো মানুষ, নাকি তারা সম্পূর্ণই আপনার কল্পনার জগৎ থেকে উঠে আসা?
মুমতা হেনা মীম: মানুষ কখনো পুরোপুরি বাস্তব নয়, আবার পুরোপুরি কল্পনাও নয়। আমার চরিত্রগুলো অনেকটা স্মৃতির মতো, কাউকে দেখে শুরু হয়, কিন্তু পরে তারা নিজেরাই নিজের জীবন তৈরি করে নেয়। প্রত্যেক মানুষের জীবনে অসংখ্য গল্প থাকে। কেউ মুখে বলে, কেউ বলে না। আমি সেই না-বলা গল্পগুলো ভাবতে ভালোবাসি। কখনো ট্রেনে দেখা কোনো নীরব মানুষ, কখনো পুরোনো শহরের একা দাঁড়িয়ে থাকা বাড়ি, কখনো নিজের ভেতরের কোনো হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি এসবই মিশে চরিত্র তৈরি হয়।
যথাসময়: একজন কবি যখন কথাসাহিত্য লেখেন, তার গদ্যে এক ধরনের কাব্যিকতা চলে আসে। আপনি কি সচেতনভাবে আপনার গদ্যে কবিসত্তাকে ধরে রাখেন, নাকি দুটোকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখেন?
মুমতা হেনা মীম: আমি ইচ্ছাকৃতভাবে আলাদা রাখি না। কারণ আমি মনে করি, একজন লেখক শেষ পর্যন্ত একটিই সত্তা বহন করেন। আমার গদ্যে যদি কাব্যিকতা এসে থাকে, তাহলে সেটা সম্ভবত আমার দেখার ভঙ্গি থেকে এসেছে। আমি দৃশ্যকে শুধু দৃশ্য হিসেবে দেখি না; তার ভেতরের আবহ, নীরবতা,স্মৃতিগন্ধ এসবও অনুভব করার চেষ্টা করি। হয়তো সে কারণেই আমার গদ্যেও কখনো কখনো কবিতা ঢুকে পড়ে। কারণ আমি ভাষার চেয়ে অনুভূতিকে বেশি বিশ্বাস করি।
যথাসময়: বলা হয়ে থাকে, ভ্রমণ মানুষকে নতুন করে দেখতে শেখায়। একজন ভ্রামণিক হিসেবে আপনার দেখা কোনো বিশেষ জায়গা বা মানুষ কি পরবর্তীতে আপনার কবিতা বা গল্পের মূল উপজীব্য হয়ে উঠেছে?
মুমতা হেনা মীম: অবশ্যই। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। শহরের ভিড়, কোলাহল, পুরান ঢাকার অলিগলি , এসব আমার ভেতরের অংশ। কিন্তু একই সঙ্গে আমি সবসময় একটু নৈঃশব্দ্য, একটু প্রকৃতি, একটু নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য খুঁজেছি। সেই কারণেই রাজশাহী আমাকে টেনেছিল। এখানে একধরনের ধীরতা আছে, শান্তি আছে, আকাশটা যেন একটু বড়। কিন্তু সত্যি বলতে, পুরান ঢাকার মায়া কাটানো আমার পক্ষে অসম্ভব। কারণ প্রাচীন জিনিস আমাকে ভীষণভাবে টানে। পুরোনো দেয়াল, পুরোনো দরজা, স্মৃতির ঘ্রাণ এসবের ভেতর আমি ইতিহাসের নিঃশ্বাস শুনতে পাই। এই অনুভূতিগুলোই পরে আমার কবিতা ও গল্পে ফিরে আসে।এখনো খুব বেশি ভ্রমণ করার সুযোগ হয়ে উঠেনি, তবে ইচ্ছে আছে বিশ্বভ্রমণের!
যথাসময়: আপনার কাছে একটি আদর্শ ভ্রমণকাহিনীর সংজ্ঞা কী? এটি কি কেবলই পথের বিবরণ, নাকি এর চেয়ে গভীর কোনো দর্শন বা আত্মোপলব্ধি?
মুমতা হেনা মীম: আমার কাছে ভ্রমণকাহিনী কেবল ‘কোথায় গেলাম’ এর বিবরণ নয়। সত্যিকারের ভ্রমণ মানুষকে ভূগোলের চেয়ে বেশি নিজের ভেতর আবিষ্কার করতে শেখায়। পথ, মানুষ, প্রকৃতি, সংস্কৃতি এসবের ভেতর দিয়ে নিজের এক নতুন সংস্করণকে খুঁজে পাওয়াটাই আমার কাছে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে।
যথাসময়: বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বর, আড্ডা বা লাইব্রেরি আপনার লেখক সত্তাকে কতটা সমৃদ্ধ করেছে? প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কি সৃজনশীল লেখায় কোনোভাবে বাধা তৈরি করে, নাকি এটি দৃষ্টিভঙ্গি আরও বাড়াতে সাহায্য করে?
মুমতা হেনা মীম: বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে সবচেয়ে বেশি শিখিয়েছে মানুষকে পর্যবেক্ষণ করতে। একটি লাইব্রেরি যেমন বইয়ের ভেতরের পৃথিবী খুলে দেয়, তেমনি ক্যাম্পাসের আড্ডা বাস্তব পৃথিবীর মুখোমুখি দাঁড় করায়। আমি মনে করি, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সৃজনশীলতার পরিপন্থি নয়; বরং এটা চিন্তার পরিসর গভীরভাবে বাড়াতে পারে। সমস্যা হয় তখনই, যখন শিক্ষা কেবল মুখস্থ বিদ্যায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
যথাসময়: বর্তমান সময়ের ছোট কাগজ (লিটল ম্যাগাজিন) আন্দোলন বা সাহিত্যচর্চার পরিবেশকে একজন তরুণ লেখক হিসেবে আপনি কীভাবে দেখছেন?
মুমতা হেনা মীম: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই আমরা কয়েকজন একটা ছোটকাগজ নিয়ে কাজ করতাম। এখান থেকেই অনেক কিছু শিখেছি। আমার মনে হয়, ছোট কাগজ এখনো সাহিত্যের সবচেয়ে স্বাধীন জায়গাগুলোর একটি। এখানে বাজারের চাপ কম, ফলে পরীক্ষামূলক চিন্তা ও নতুন ভাষার জন্ম হয়। তবে একই সঙ্গে আমি অনুভব করি, এখন অনেক কিছু খুব দ্রুত দৃশ্যমান হওয়ার প্রতিযোগিতায় আটকে যাচ্ছে। অথচ সত্যিকারের সাহিত্য একটু ধীর, একটু নীরব। সেটাকে সময় দিতে হয়, যত্ন নিতে হয়!
যথাসময়: বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য অনুবাদ সাহিত্যের গুরুত্ব কতখানি বলে আপনি মনে করেন? নিজে কি কখনো অন্য ভাষার সাহিত্যকে নিজের ভাষায় রূপান্তর বা নিজের লেখাকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন?
মুমতা হেনা মীম: ইতোমধ্যে আমি কিছু অনুবাদের কাজ করেছি। অনুবাদ আমার কাছে শুধুই ভাষান্তর না, এটা সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন। আমরা অনুবাদের মাধ্যমে অন্য দেশের মানুষের স্বপ্ন, ভয়, প্রেম ও ইতিহাসকে স্পর্শ করতে পারি। আমি অবশ্যই চাই ভবিষ্যতে বিশ্বসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ বাংলায় রূপান্তর করতে। আবার নিজের লেখাকেও একদিন বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। সাহিত্য কখনো সীমান্ত মানে না।
যথাসময়: এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে একজন লেখকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বা সংকট কোনটি বলে আপনি মনে করেন?
মুমতা হেনা মীম: আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় সংকট হলো মনোযোগের সংকট। এখন মানুষ খুব দ্রুত সবকিছু গ্রহণ করতে চায়, কিন্তু গভীরভাবে অনুভব করার ধৈর্য্য, শক্তি কমে যাচ্ছে। AI হয়তো ভাষা তৈরি করতে পারবে, কিন্তু মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতি, একাকিত্ব কিংবা নস্টালজিয়ার ভেতরের ব্যথা পুরোপুরি ধারণ করতে পারবে কি না, সেটি এখনো বড় প্রশ্ন। কারণ একজন লেখক কেবল শব্দ লেখেন না, তিনি সময়, আবেগ অনুভূতির সাথে মানুষের অভ্যন্তরীণ নীরবতাকেও ধারণ করেন।
যথাসময়: লেখক হিসেবে আপনার চূড়ান্ত স্বপ্ন বা লক্ষ্য কী? সামনে আপনার পাঠকেরা নতুন কী পেতে যাচ্ছেন?
মুমতা হেনা মীম: আমি এমন সাহিত্য রচনা করতে চাই, যা পাঠককে নিজেকে নতুনভাবে চিনতে সাহায্য করবে, মস্তিষ্কে সুন্দর ভাবনার উদ্রেক ঘটাবে, হৃদয় স্পর্শ করবে। আমি স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি। আমার স্বপ্নেরা আকাশ ছোঁয়া! মাঝেমধ্যে মজা করে ভাবি, দেশের প্রেসিডেন্ট হতে পারলে কেমন হতো! হাহা! তবে সত্যি বলতে, ভবিষ্যতে ঠিক কী করবো বা কোথায় পৌঁছাবো, সেটা আমি নিজেও জানি না। জীবন তো শেষ পর্যন্ত খুব অনিশ্চিত এক ভ্রমণ। তবে একটা জিনিস খুব স্পষ্ট আমি একজন মানুষ হতে চাই। খুব সাধারণ মানুষ, যার ভেতরে মায়া থাকবে, অনুভূতি থাকবে, মানুষের জন্য ভালোবাসা থাকবে। কারণ আমার কাছে লেখক হওয়ার আগেও মানুষ হওয়াটা বেশি জরুরি। সামনে আমি নস্টালজিয়া, পুরোনো শহর, হারিয়ে যাওয়া সময় , ভ্রমণ এবং মানুষের অন্তর্জগত নিয়ে আরও গভীরভাবে কাজ করতে চাই। হয়তো একদিন আমার নীলরঙা ভক্সওয়াগন নিয়ে দেশের পথে পথে ঘুরে সেইসব গল্পই লিখবো, যেগুলো আমরা ব্যস্ত এই সময়ে এসে ক্রমশই ভুলে যাচ্ছি।
যথাসময়: অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ যথাসময়.কম-এর সঙ্গে থাকার জন্য।
মুমতা হেনা মীম: আপনাকে ধন্যবাদ।
