প্রতীকী ছবি
যশোরের চৌগাছায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জুয়েল রানা (৪০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত অবস্থায় জুয়েলকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। নিহত জুয়েল রানা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে ও পাতিবিলা ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য। এ ঘটনায় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রী মায়া খাতুন (৩৫) আহত হয়েছেন। জুয়েলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে মুক্তদাহ মোড়ে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, তার ছেলে বাবুসহ ছয়-সাত জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জুয়েলের ওপর হামলা চালান। তারা জুয়েলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পিটিয়ে দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে ভেঙে দেন। গুরুতর অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ সময় মারধর ঠেকাতে গিয়ে স্ত্রী মায়া খাতুনও আহত হন।
পুলিশ জানায়, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে জুয়েলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জুয়েলের বিরুদ্ধে মারামারি ঘটনাসহ তিনটি মামলা রয়েছে। তবে তার স্ত্রীকে বেঁধে রাখার কথা আমাদের জানা নেই। হত্যার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
