বগুড়ায় শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে
প্রতীকী ছবি

বগুড়ার আদমদীঘিতে সাড়ে ছয় বছর বয়সী রাকিকা আক্তার রাকা নামের এক শিশুকন্যার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় আদমদীঘিতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু রাকা আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার ইয়ার্ড কলোনি নূরানি মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা রায়হান আলী পেশায় একজন অটোরিকশা গ্যারেজ মিস্ত্রি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাকা প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তার দাদি, ফুফু ও বাবা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও রাকার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়িতে বিষয়টি জানান। পরে সাধারণ ডায়েরি করার জন্য রাকার বাবাকে আদমদীঘি থানায় পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা খবর পান, সান্তাহার পৌরসভার সাহেবপাড়া এলাকার আমজাদ হোসেনের বাড়ির শয়নকক্ষে সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে রাকার মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন প্রধান সন্দেহভাজন আমজাদ হোসেনকে আটক করে রাখেন। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।

খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা ও সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমজাদ হোসেন (৪০), তার স্ত্রী বন্যা (৩২) এবং অপর সহযোগী বাবুকে হেফাজতে নেন। এ সময় গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রীকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এলাকাবাসী জানায়, খুব ছোট বয়সেই রাকিকা মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়। মা তাকে ফেলে অন্যত্র সংসার শুরু করলে তার লালন-পালনের দায়িত্ব নেন ফুফু। বাবার কর্মব্যস্ততার কারণে সারাদিন বাড়িতে থাকা সম্ভব হতো না, তাই ফুফুর স্নেহেই বেড়ে উঠছিল ছোট্ট রাকা।

আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরের পাশে রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • উদ্ধার
  • বগুড়া
  • বস্তাবন্দি
  • লাশ
  • শিশু