ভারত তাদের দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের যে ঘোষণা দিয়েছে, সেটিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্নে আজ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রানধীর জয়সোয়াল নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার এবং এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি।
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর থেকে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে বুঝিয়ে দেবে।
এর জেরে বাংলাদেশ থেকেও অনানুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশকে ভয় দেখানোর সুযোগ নেই এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এতে আতঙ্কিত নয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে আজ সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্কের আরও কিছু দিক নিয়েও প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন রানধীর জয়সোয়াল। দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক বর্তমানে ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’ মনে করিয়ে দেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর করেছেন এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন।’
ব্রিফিংয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টিও উঠে আসে। রানধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছেন বলে সন্দেহ করা ২ হাজার ৮৬০ জনের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারত মনে করে তারা বাংলাদেশি নাগরিক, তবে বাংলাদেশ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।’
অন্যদিকে তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এক সাংবাদিক তাঁর প্রশ্নে বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিতে চীনকে অনুরোধ করেছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে, যা বাংলাদেশের আগের সরকারের সিদ্ধান্তের (যেখানে ওই প্রকল্পের ভার ভারতকে নিতে বলা হয়েছিল) পরিবর্তন। এ জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ পারস্পরিক বিশ্বাসের জায়গাটা নষ্ট করে কি না – সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাব সরাসরি দেননি রানধীর জয়সোয়াল। শুধু বলেছেন, বিশ্বের যেখানে যেকোনো স্থানে যেকোনো ঘটনার ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা হয়। এ ক্ষেত্রেও সেই নজর রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে পারস্পরিক স্বার্থই প্রাধান্য পায়।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল বাংলাদেশে কোনো কোনো মহলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বলে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে জয়সোয়াল বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছি যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ভারত ইতিবাচক করে তুলতে চায়। ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে চায়। সেই মনোভাবের বদল হয়নি।’
