আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। বুধবার (১৩ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েকদিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আগামীকাল বাদ জোহর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নে রহমান কলেজ মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের এই নেতার ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান রুহেলের ব্যক্তিগত সরকারী হাবিব খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। আওয়ামী লীগের সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১২টি মামলা হয়। এসব মামলায় ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। অসুস্থতাজনিত কারণে তার পরিবার অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে তার মুক্তি কামনা করেন। ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট তিনি সবকটি মামলায় জামিনের পর মুক্তি পান।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মীরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম এস রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। তার মায়ের নাম পাঞ্জেবুনেছা।
পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ১৯৬৬ সালে তিনি লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহসিকতার জন্য লাহোরে বাঙালি ছাত্রদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় মোশাররফ ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন।
সেখানে পড়াশোনাকালে ১৯৬৬ সালে লাহোরে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রদের নিয়ে মোশাররফ হোসেন ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে মীরসরাই আসন থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বপরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে তিনি ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৬ সালে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রেসিডিয়াম সদস্য (নম্বর-১) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার বিকেল ৫টায় ঢাকায় আজাদ মসজিদে তার প্রথম নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা এবং বিকেল ৫টায় মিরসরাই মহাজনহাট কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
