হত্যা, জালিয়াতি ও দুর্নীতির সাত মামলায় জামিনপ্রাপ্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। আগামী রোববার এই রিটে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির এই দিন ধার্য করেন।
হত্যা, জালিয়াতি ও দুর্নীতির পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ১২ মে এই দুই মামলাতেও হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়ে আগের পাঁচ মামলার জামিনও বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
ফলে খায়রুল হকের কারামুক্তির পথ খোলে। কিন্তু নতুন মামলায় ফের তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হক।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, মোতাহার হোসেন সাজু ও মোস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীনসহ আরো অনেকেই। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ।
পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘রিটটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষ শুনানির জন্য সময় চাইলে আদালত আগামী রবিবার শুনানির দিন ধার্য করেন।’
দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। পরের বছর ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান।
২০১৩ সালের ২৩ জুলাই খায়রুল হককে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা পুনর্নিয়োগ পান খায়রুল হক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আট দিন পর ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
গত বছর ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে সাতটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সম্প্রতি সাত মামলাতেই হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন তিনি।
