হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

চিকিৎসায় অবহেলা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে জিন্নাত আলীর ছেলে আবু হুরায়রা এ মামলার আবেদন করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। এ ছাড়াও যাদের আসামি করার আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এস.এম.এম নিরব হোসেন, ডা. সিরাজুল, ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার, রিসিপশনের জুনায়েদ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় শহিদ, আশিক, সামিউল, মশিউর রহমান লাভলু এবং সিকিউরিটি গার্ড সাইদুর।

মামলায় অভিযোগে বলা হয়, জিন্নাত আলী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সেখানে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। ওয়ার্ড বয় শহিদ ভিকটিমকে জরুরি বিভাগে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। পরে আবু হুরায়রাকে এসে বলে, তার বাবার হার্টে নয়, মাথায় সমস্যা। তাকে আইসিইউতে নিতে হবে। এখানেসহ ঢাকার কোথাও আইসিইউ খালি নেই।

হৃদয় জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ খালি আছে। সেখানে কম টাকায় চিকিৎসা করাতে পারবে। প্রতিদিন মাত্র ১৫ হাজার টাকা লাগবে। শহিদের কথামতো রাজি হলে সেসহ আশিক, সামিউল, মশিউর রহমান লাভলু, সাইদুর গাড়ি ঠিক করে আবু হুরায়রার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে হৃদয় জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এর ১০ মিনিট পর ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার ও জুনায়েদ ২০ মিনিটের মধ্যে ভিকটিমের টেস্ট করানো ও ওষুধ কেনার জন্য সাড়ে ১৫ হাজার টাকা নেয়।

ওষুধ কেনার জন্য তারা আবারো টাকা চায়। এতে আবু হুরায়রার সন্দেহ হলে তিনি ডা. নিরব হোসেন ও ডা. সিরাজুলকে জানান, বাবার চিকিৎসা এখানে করাবেন না। তারা তাকে জানায়, এখানে চিকিৎসা ভালো। তারপরও আবু হুরায়রা জোর দিলে রিসিপশনে গিয়ে বিল পরিশোধ করে নিয়ে যেতে চান।

রিসিপশনে গিয়ে আবু হুরায়রা দেখেন, ২৭ হাজার টাকা বিল হয়েছে। বিল পরিশোধ ছাড়া তার বাবাকে নিয়ে যেতে পারবেন না বলেও জানানো হয়। আবু হুরায়রা ডা. নিরব হোসেন ও ডা. সিরাজুলকে বারবার অনুরোধ করছিলেন। পরে নিরব হোসেনের নেতৃত্বে ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার ও জুনায়েদ ও তাদের তিনজন আবু হুরায়রাকে আটকে রেখে মারধর করে এবং তার বাবার চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। অনেক কষ্টে ১২ হাজার টাকা জোগাড় করে তিনি হাসপাতালে দেন। দুপুর ২ টা ১৫ মিনিটের দিকে তারা ভিকটিমকে ছেড়ে দেয়। আবু হুরায়রা তার বাবাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করান। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জিন্নাত আলী মারা যান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আবু হুরায়রা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান চার ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে। তখন তারা চিকিৎসাপত্র ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। তাকে মেরে ফেলার এবং চোর বানিয়ে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেয়। গত ২ মার্চ আবু হুরায়রা আবার সেখানে যান। তারা তাকে চোর বানিয়ে পুলিশের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ আবু হুরায়রার অভিযোগের কপি দেখে তাকে ছেড়ে দেয়।

এ বিষয়ে বাদী থানায় অভিযোগ করতে যান। তবে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • আবেদন
  • ইনস্টিটিউট
  • পরিচালক
  • মামলা
  • হৃদরোগ