প্রতীকী ছবি
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ফরিদপুর ইউনিয়নে এক যুবককে রহস্যজনকভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বুধবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ব্রহ্মপুত্র নদের পাশের একটি পতিত জমি থেকে মো. হানিফ মিয়া (৩৪) নামে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হানিফ ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকার মো. ইব্রাহিমের ছেলে এবং পেশায় ‘স’ মিল শ্রমিক ও কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী লসকর মিয়ার ছেলে মো. জাকির হোসেন হানিফকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ১২টার দিকে হানিফ তাঁর স্ত্রী আয়েশার মোবাইলে ফোন করে আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাকে বাঁচাও, জাকিররা আমাকে মেরে ফেলবে।’ এই ফোন পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলেও সব গেট বন্ধ দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় খোঁজাখুঁজি শুরু করলে একপর্যায়ে লসকর মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে একটি পতিত ধানক্ষেতে হানিফের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা লসকর মিয়াকে পালানোর সময় আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলেও মূল অভিযুক্ত জাকির হোসেনসহ অন্যরা পালিয়ে যান। এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষুব্ধ জনতা লসকর মিয়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে একটি পাকা ঘর এবং ঘরের ভেতর ও বাইরে থাকা একটি মোটরসাইকেলসহ আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এবং ধারণা করা হচ্ছে মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরীফ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
