চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে থাকা জাহাজে দুই নাবিকের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, থাই নাবিক নিহত

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৪৮ minutes ago

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে রাখা থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে দুই থাই নাবিকের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নাবিক অন্যজনের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে ‘এমভি কেপিপি-০১’ নামক জাহাজে এ ঘটনা ঘটে। নিহত থাইল্যান্ডের ওই নাবিকের নাম রাফিফং ক্লাহান (৩০)। তিনি জাহাজটিতে ‘অয়েলার’ পদে কর্মরত ছিলেন।

বন্দর ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি উপকূলে পুরোনো লোহা হিসেবে ভাঙার (স্ক্র্যাপ) জন্য ‘এমভি কেপিপি-০১’ জাহাজটিকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। মঙ্গলবার দুপুরে জাহাজটিতে দায়িত্ব পালন করার সময় থাইল্যান্ডের এই দুই নাবিকের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে আকস্মিক কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই সাধারণ বিতর্কটি উগ্র রূপ নেয় এবং দুইজনের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরি দিয়ে রাফিফং ক্লাহানের ওপর আক্রমণ করা হয়। ছুরির উপুর্যপরি আঘাতে তিনি মারাত্মকভাবে জখম ও রক্তাক্ত হন।

ঘটনার পরপরই জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট গুরুতর আহত রাফিফং ক্লাহানকে দ্রুত জাহাজ থেকে নামিয়ে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তীব্র রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে জাহাজের অভ্যন্তরে বিদেশি নাগরিক খুনের খবর পেয়ে পতেঙ্গা ও আনোয়ারা থানা-পুলিশ জাহাজ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত অপর থাই নাবিক তুরাকর্ণ বুরুসিকে আটক করতে সক্ষম হন। আটকের পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আনোয়ারা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবায়ের চৌধুরী রাতে জানান, থাইল্যান্ডের এক নাবিকের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট তথ্য তারা পেয়েছেন এবং অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • চট্টগ্রাম বন্দর
  • থাই নাবিক
  • নিহত
  • রক্তক্ষয়ী
  • সংঘর্ষ