মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণের ক্ষতি, বুয়েটকে দিয়ে গবেষণার নির্দেশ হাইকোর্টের

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

মুঠোফোন নেটওয়ার্কিং টাওয়ারের বিকিরণের মাধ্যমে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, সে বিষয়ে বুয়েটের মাধ্যমে গবেষণা করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১৩ মে) বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, শুনানি শেষে আদালত বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসানের রিপোর্ট অনুসারে বাংলাদেশে স্থাপিত মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ থেকে কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে তা নির্ণয়ের জন্য তার প্রস্তাবিত মত অনুসারে বিটিআরসিকে একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে গবেষণা করে প্রতিবেদন তৈরি করতে বলেছেন। এই প্রতিবেদন আদালতে আগামী ৬ মাসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

একই সাথে আদালত রায়ের অন্যান্য নির্দেশনা ও পরামর্শ, বিশেষ করে পাবলিক প্লেসে অর্থাৎ ‘স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত’ প্রমুখ স্থানে টাওয়ার স্থাপন না করার বিধান গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার আদালতের মতামত অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করেও আদালতে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ২ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণের মাধ্যমে মানুষ, পশু, পাখি ও গাছপালা ইত্যাদির ক্ষতি হচ্ছে মর্মে মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশিত হলে, এ সম্পর্কিত রিপোর্ট সংযোজন করে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।

২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল হাইকোর্ট দীর্ঘ শুনানি শেষে রুল যথাযথ করে রায় দিয়ে বিটিআরসিকে ফিল্ড সার্ভে করে বর্তমান মাত্রা কতটুকু কমানো যায় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালত রায়ে জনসমাগম স্থলে অর্থাৎ ‘স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত পাড়া’সহ বিভিন্ন জায়গায় যাতে এ ধরনের টাওয়ার স্থাপন করা না হয় গাইডলাইনে তা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন।

আদালতের রায়ের পরে বিটিআরসি কর্তৃক একটি কমিটি করে একইভাবে আগের মাত্রা বহাল রাখার প্রতিবেদন দাখিল করে।

জবাবে এইচআরপিবির পক্ষে উক্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি তুলে বলা হয়, পার্শ্ববর্তী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে উক্ত বিকিরণের মাত্রা ১০ ভাগের এক ভাগ করার যে ব্যবস্থা প্রচলিত আছে সে অনুসারে বাংলাদেশেও মোবাইল টাওয়ার গুলোতে কমানোর আবেদন জানান।

এ ব্যাপারে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের মতামত শোনার আবেদন জানানো হয়। এরপরে ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালত এক আদেশে বিশেষজ্ঞ মতামত শুনতে আদেশ দেন।

আদালতের নির্দেশনা অনুসারে বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসান আদালতে এসে বক্তব্য রাখেন এবং ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল একটি লিখিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। যেখানে তিনি মোবাইল টাওয়ার থেকে রেডিয়েশনের মাত্রা কমানোর সুপারিশ করেন, একই সাথে এই ধরনের মাত্রা কী পরিমাণ ক্ষতি করছে সে ব্যাপারে বাংলাদেশে একটি গবেষণার প্রস্তাব করেন।

  • ক্ষতি
  • গবেষণা
  • বিকিরণ
  • বুয়েট
  • মোবাইল টাওয়ার
  • হাইকোর্ট