চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকের দাবিতে কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষ ঘটনাস্থল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ৫টার দিকে বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটায় একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর শুনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ থানায় নিতে গেলে জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। এ সময় কয়েক হাজার মানুষ পুলিশকে ঘেরাও করে রাখেন। আটকে পড়ে বাকলিয়া থানা-পুলিশের দল। পরে পুলিশ বাড়তি ফোর্স তলব করে বিক্ষুব্দ জনতাকে সরাতে যায়। তখন পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের সরাতে কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনার সময় চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় পত্রিকার দুই সাংবাদিকসহ ১০ জনের মতো আহত হন।
গণমাধ্যমের দুই কর্মীর গায়ে গুলি লাগার কথা প্রচার হলেও তা গুলি নাকি টিয়ার শেল, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।
সর্বশেষ এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ১০টা) জনতা পুলিশের দলকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ঠিক কার হেফাজতে আছেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি কেউ।
এ বিষয়ে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।’ তবে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের কথা স্বীকার করেননি ওসি।
ভুক্তভোগী শিশুর খালা জানান, আজ বিকেলে চেয়ারম্যানঘাটা-সংলগ্ন বালুর মাঠ এলাকার একটি দোকানের ভেতরে ভুক্তভোগীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যান এক যুবক। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো হয়। ঘটনার পর শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে তার নানা-নানিকে বিস্তারিত জানায় এবং তার শরীরে হাত দেওয়ার কথা বলে।
