রোমে ৩ বাংলাদেশি হত্যা: বিএনপির সেই শাহাদাত এখনো লাপাত্তা

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে

ইতালির রোমের বাংলাদেশি এক পরিবারের তিন সদস্যকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেনকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। তার খোঁজে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। এর মধ্যে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টিও সামনে আসছে।

শাহাদাত রোম মহানগর বিএনপির মন্তেমারিও শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নোয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছাবের আহাম্মেদ অবশ্য দাবি করছেন, নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে শাহাদাতকে আগেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শাহাদাতকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করার কথা জানিয়েছে ইতালীয় পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাজনৈতিক সহকর্মী বা পরিচিতরা হয়ত তাকে পালিয়ে থাকতে সহায়তা করছে।

ইতালির সংবাদমাধ্যম ইল মেসাজ্জেরোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৩ বছর বয়সি শাহাদাত হোসেন রোমে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ। এ কারণে সেখানকার পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে তার ছবি প্রকাশের আগেই দেশে-বিদেশে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়া তার বেশ কিছু ছবি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন ‘সক্রিয় নেতা’। ওই রাজনৈতিক পরিচয় এবং তার সোশাল মিডিয়ার সূত্রগুলোও এখন তদন্তের আওতায় এনেছে ইতালীয় পুলিশ।

ইল মেসাজ্জেরো লিখেছে, ফেইসবুকে প্রোফাইলে তার অসংখ্য ছবি রয়েছে, যেখানে রোমে ও বাংলাদেশে তাকে সমাবেশ, সেমিনার, বিক্ষোভ ও মঞ্চে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। দলীয় নেতাদের পাশে বসে থাকা এবং ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটির পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার ছবি রয়েছে।

এসব ছবি ও ভিডিও থেকে এটা স্পষ্ট যে, তিনি রোমের বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক ও সামাজিক নেটওয়ার্কে বেশ ভালোভাবেই যুক্ত ছিলেন।

পত্রিকাটি লিখেছে, সন্দেহ করা হচ্ছে, দলের কোনো বন্ধু বা তার কোনো সমর্থক তাকে লুকিয়ে রেখেছে কিংবা হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। হয়ত তাকে ইংল্যান্ডে ফিরে যেতে সহায়তা করা হয়েছে, সেখানে তার স্ত্রী ও মেয়ে থাকেন। শাহাদাত বাংলাদেশেও চলে গিয়ে থাকতে পারেন, সেখানে তার বহু আত্মীয় স্বজন রয়েছে।

পুলিশ এখনো কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছে না এবং তার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন—এমন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

শাহাদাতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা বাংলাদেশে হলেও পরে তা রোমেও অব্যাহত ছিল বলে ইল মেসাজ্জেরোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইতালি বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, কিছু ‘খারাপ’ মানুষের জন্য বিএনপির ‘দুর্নাম’ হচ্ছে। এই শাহাদাৎকে কে বা কারা দলে অন্তর্ভুক্ত করিয়েছিল বা এখানে কোনো স্বার্থ লুকিয়ে ছিল কি না তা এখনই খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোমের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শাহাদাত ইতালি বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঢালী নাসির উদ্দীন ও ইতালির বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ফেইসবুকে তাদের সঙ্গে শাহাদাতের বেশ কিছু ছবিও রয়েছে।

রোমে ৩ বাংলাদেশি  হত্যা: বিএনপির সেই শাহাদাত এখনো লাপাত্তা

ছবি: রোমে বিএনপির এক অনুষ্ঠানে শাহাদাত (সবার বাঁয়ে)

এ বিষয়ে জানতে ইতালি বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঢালী নাসির উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি। ইতালির বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসারের বক্তব্যও জানার চেষ্টা করছে।

রোম প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পুলিশের বিশেষ তদন্ত ইউনিট হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তারে ইতালিজুড়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিভিন্ন সীমান্তপথ, সড়ক ও সম্ভাব্য পালানোর রুটে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কাসালোত্তির আশপাশের গ্রামীণ এলাকা এবং চোচিয়ারিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন খামারবাড়িতে তল্লাশিও চালানো হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের দিন ২৬ জুন ফ্রোসিনোনে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ইতালিতে বসবাসের অনুমতিপত্র (রেসিডেন্স পারমিট) সংগ্রহ করেছিলেন শাহাদাত।

তবে তাকে পালিয়ে থাকতে সহায়তা করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনেনি ইতালীয় কর্তৃপক্ষ।

ইতালির সংবাদমাধ্যম ফ্যানপোস্ট লিখেছে, হত্যাকাণ্ডের পর শাহাদাত আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন–এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। সে কারণে টাইবার নদীসহ আশপাশের জলপথেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

  • বাংলাদেশি
  • বিএনপি
  • রোম
  • হত্যা