শয়নকক্ষে খাটের ওপর পড়ে ছিল স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে
প্রতীকী ছবি

রাজশাহীর বাঘায় নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে বিষের গন্ধ পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের আরিফপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিনের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৪৫) ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন (৩৮)। তাদের কোনো সন্তান ছিল না। মনিরুল ইসলাম পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটার একটি ঘরে স্বামী-স্ত্রী বসবাস করতেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্বপ্না খাতুনের বোন পাখি বেগম বোনের বাড়িতে এসে বাইরের টিনের গেটে তালা ঝুলতে দেখেন। বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তার সন্দেহ হয়। পরে স্বামী ইমামুল, ছেলে বাপ্পি ও পলাশকে সঙ্গে নিয়ে ঘরের পেছনের দিক দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পাশের কক্ষ দিয়ে বাপ্পি ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, একই খাটে স্বপ্না খাতুন চিৎ হয়ে ও মনিরুল ইসলাম উপুড় হয়ে পড়ে আছেন। এরপর দরজা খুলে পরিবারের সদস্যরা ভেতরে গিয়ে তীব্র বিষের গন্ধ পান এবং তাদের নিথর অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন জানান, গ্রামবাসীরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে একই খাটে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পান। নিহতদের মুখ ও শয়নকক্ষের ভেতরে বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে।

নিহত মনিরুল ইসলামের স্ত্রীর বোনের জামাই ইমামুল হোসেন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক ভালো ছিল। দীর্ঘদিনেও সন্তান না হওয়ায় তারা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। কোরবানির ঈদের পর তারা কাজের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জে গেলেও বেশিদিন সেখানে থাকেননি। ঢাকায় যাওয়ার আগে মনিরুল ইসলাম ব্র্যাক থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সোমবার তিনি ভাইয়ের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা ধার নেন। মঙ্গলবার সেই টাকা দিয়ে ব্র্যাকের কিস্তি পরিশোধ করার কথা বলে যান। পরে কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হলেও কিছুক্ষণ পরই তাদের মৃত্যুর খবর আসে। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা পরিবারের কারও জানা নেই বলে জানান তিনি।

ব্র্যাকের মাঠকর্মী লাভলী বেগম বলেন, মঙ্গলবার কিস্তির বিষয়ে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার মোবাইলফোনে কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় স্বামী-স্ত্রী বিষপান করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে তাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ দুটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

  • বাঘা
  • মরদেহ
  • রাজশাহী
  • স্বামী-স্ত্রী