একনেকে ৯ প্রকল্প অনুমোদন, পদ্মা ব্যারেজে খরচ ৩৪,৩৪৭ কোটি টাকা

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ ঘন্টা আগে

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজসহ  ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে  বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। 

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২০৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আজকের সভায় ৩টি নতুন প্রকল্প, ৫টি সংশোধিত প্রকল্প এবং ১টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পদ্মা ব্যারেজ (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক নতুন প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড (পতেঙ্গা হতে সাগরিকা)’ প্রকল্পের পঞ্চম সংশোধনী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ধনুয়া হতে ময়মনসিংহ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী সভায় অনুমোদন পেয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন’ ও ‘গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক দুটি প্রকল্পেরই দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘জেলা শহরে বিদ্যমান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যায় উন্নীতকরণ বা পুনর্নির্মাণ (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ‘হাই-টেক সিটি-২ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোটমনি নিবাস নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাভার সেনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সমস্যা নিরসনে ‘৪ x এসএম ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৪৩.৬৪ কোটি টাকা। এর মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানিশূন্যতা দূর করা, নদী ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক পানি ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটানো।  প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশায় নির্মিতব্য এই ব্যারাজটি প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি ধরে রাখবে, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করবে।

এছাড়াও সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতিপূর্বে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত আরও দুটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এগুলো হলো—ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলায় বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।

সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১০ম তলায় মন্ত্রিসভা কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

  • অনুমোদন
  • একনেক
  • পদ্মা ব্যারেজে
  • প্রকল্প