অপহৃত একজনকে উদ্ধারে গিয়ে ৪ জনকে পেল পুলিশ

লেখক:
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে
ছবি : গ্রেপ্তার আল-ওয়াজেদ ফয়সাল ও মিজানুর রহমান রিপন

অপহরণের খবরে এক মাছ ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে নেমে ওই ব্যক্তিসহ চারজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ব্যবসায়ী সেলিমসহ চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত অন্যরা হলেন- সাইফুল, সোহেল ও আলী আহমেদ। তাদের উদ্ধারের আগে অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। তারা হলেন- মিজানুর রহমান রিপন ও আল-ওয়াজেদ ফয়সাল।  ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা এ তথ্য জানান।

পুলিশ বলছে, মাছ ব্যবসায়ী ৩৪ বছর বয়সি সেলিমকে রোববার ভোরে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকার বেড়িবাঁধ থেকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় সেলিমের স্ত্রী শানু বেগম অভিযোগ করেন।

তদন্তে নেমে রোববার রাতেই ‘অপহরণ চক্রের হোতা’ মিজানুর রহমান রিপনকে হাতিরঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা।

এরপর সোমবার সকালে উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় অপহৃত চারজনকে।

পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল রানা বলেন, চক্রটি প্রথমে সেলিম, সাইফুল ও সোহেলকে অপহরণ করে। এর মধ্যে সেলিম ও সাইফুলকে বাসাবোর একটি বাসায় আটকে রেখে সোহেলকে নিয়ে আবারো মাইক্রোবাসে বেড়িবাঁধ এলাকায় আসে। এসময় আলী আহমেদ নামে এক রিকশাচালককে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় তারা। প্রত্যেককে আটকে রেখে মারধর করে পরিবারের কাছে প্রথমে ২ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে।

পুলিশ বলছে, অপহৃত ব্যক্তিদের গাড়িতেই বেঁধে উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে মারধর শুরু করে। এরপর বাসাবোর একটি বাসায় আটকে রেখে মারধর করতে থাকে। সেলিমের স্বজনরা পুলিশের কাছে গেলে একটি বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে প্রথমে রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা বলেন, রিপনকে গ্রেপ্তারের পর তার লোকজন সেটি জানতে পেরে অপহৃতদের বাসাবোর বাসা থেকে উত্তরা দিয়াবাড়িতে একটি গ্যারেজে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আমরা সকালে চারজনকে উদ্ধার ও ফয়সালকে গ্রেপ্তার করি।

ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রেপ্তারদের ব্যাপারে আমরা তদন্ত করে দেখছি। তাদের মঙ্গলবার তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে। এই চক্রের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা, সে ব্যাপারে আমরা অনুসন্ধান করছি।

পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল বলেন, অপহরণ চক্র প্রত্যেকের হাতে ওয়্যারলেস থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ঢাকায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ব্যক্তিদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করত। অপহরণ চক্রটির ৭-৮ জন সদস্য রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে লোকজনকে অপহরণ করে তারা মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

  • অপহৃত
  • উদ্ধার
  • পুলিশ
  • রাজধানীর