নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ গৃহবধূ সায়মা বেগম মারা গেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই ঘটনায় একই পরিবারের মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, গৃহবধূ সায়মা শরীরে ৬০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এই নিয়ে একই পরিবারের মোট পাঁচজনেরই মৃত্যু হলো।
গত রোববার সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ৮ তলা ভবনের নিচতলায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সবজি বিক্রেতা মো. কালাম, তার স্ত্রী সায়মা বেগম এবং তাদের তিন শিশু সন্তান–মুন্না, মুন্নি ও কথা গুরুতর দগ্ধ হয়েছিলেন। আগে চারজন এবং আজ একজন মারা গেলেন। পরিবারটির আর কেউ বেঁচে রইল না।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ একই পরিবারের ৪ জনকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে আব্দুল কাদের (৫০) নামের গৃহকর্তা মারা গেছেন। আর তাঁর তিন ছেলে মেহেদী (১৭) সাকিব (১৬) ও রাকিব (১৬) এখনো চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল কাদেরের মৃত্যু হয়। এর আগে গত সোমবার সকাল ছয়টার দিকে ঘরের ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটে। পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা এলাকায় থেকে দগ্ধ হয়ে চারজন আসে। আব্দুল কাদের আজ পৌনে এগারোটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরে ৫৭ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এই ঘটনায় তার তিন ছেলের মধ্যে মেহেদির ১৮ শতাংশ দগ্ধ, সাকিবের ১৭ শতাংশ দগ্ধ, রাকিবের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
