রাজশাহীর দুর্গাপুরে নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর হুমায়রা জান্নাত (৪) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার বাজুখলসী গ্রামে এক প্রতিবেশীর বাড়ির পাশের একটি খেজুর গাছের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত হুমায়রা জান্নাত উপজেলার বাজুখলসী গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী হাসিবুল হোসেনের মেয়ে। এর আগে গত ১৫ মে বিকেল ৫টার দিকে নিজ বাড়ির কাছ থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে হুমায়রা নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা আশপাশের পুকুর, জঙ্গলসহ বিভিন্ন স্থানে রাতভর তল্লাশি চালান। তবে তার কোনো সন্ধান মেলেনি। শনিবার সকাল ৮টার দিকে হুমায়রার সন্ধানদাতাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয় পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, সকাল ১০টার দিকে হুমায়রার বাবার মুঠোফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। এ সময় শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুপুর দুইটার দিকে প্রতিবেশী রাজিবের বাড়ির পাশে একটি খেজুরগাছের নিচে হুমায়রার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হুমায়রার বাবা হাসিবুল হোসেন বলেন, আমার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছিল, তা প্রথমে বুঝতে পারিনি। সকালে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়। এরপর যেসব জায়গায় আগে খোঁজাখুঁজি করা হয়েছিল, ঠিক তেমনই একটি স্থানে দুপুর ২টার দিকে মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায়।
দুর্গাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
