আফগানিস্তানে বিয়েতে কুমারী মেয়ের নীরবতাকে সম্মতি ধরা যেতে পারে

লেখক: বিশ্বপরিস্থিতি ডেস্ক
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

আফগানিস্তানে তালেবান সরকার পরিবার আইন সংশোধন করে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ এবং শিশু বিয়ে সংক্রান্ত নতুন নিয়ম জারি করেছে। তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই বিধিমালা তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা অনুমোদন করেছেন। মে মাসের মাঝামাঝি এ বিষয়ে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়।  এ খবর জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এই নথিতে শিশু বিয়ে, নিখোঁজ স্বামী, জোরপূর্বক বিচ্ছেদ, ধর্মত্যাগ, ব্যভিচারের অভিযোগসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও আইনি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে বিতর্কিত ধারাগুলোর একটিতে বলা হয়েছে, বয়ঃসন্ধি পার হওয়া কুমারী মেয়ের নীরবতাকে বিয়ের সম্মতি হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। আবার শৈশবে বিয়ে দেওয়া শিশুরা বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর সেই বিয়ে বাতিলের আবেদন করতে পারে।

আইন নুযায়ী, যদি কোনো শিশুর বাবা বা দাদার বাইরে অন্য আত্মীয় বিয়ে ঠিক করেন, তবে যদি জীবনসঙ্গীকে সামাজিকভাবে উপযুক্ত এবং দেনমোহর যথাযথ ধরা হয়, তাহলে সেই বিয়েটি বৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে শিশু পরে তালেবান আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বাতিল চাইতে পারবে। আরেকটি ধারা বলছে, যদি জীবনসঙ্গী ‘অযোগ্য’ হয় বা দেনমোহর অন্যায্য হয়, তাহলে সেই বিয়ে বৈধ বলে গণ্য হবে না।

বিধিমালায় বাবা ও দাদাদের শিশুর বিয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যদি অভিভাবকরা নির্যাতনকারী, মানসিকভাবে অযোগ্য বা নৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণিত হন, তাহলে সেই বিয়ে বাতিল করা যেতে পারে।

গার্লস নট ব্রাইডস নামের একটি সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছরের আগেই হয়।

  • আইন
  • আফগানিস্তান
  • বিয়ে