পদোন্নতি বাণিজ্যের নামে প্রতারণায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নারী কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ ঘন্টা আগে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তাদের কাঙ্ক্ষিত স্থানে বদলি এবং পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেনে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন এম আমিনুর রহমান শান্ত (৪৪) ও নিলুফা সুলতানা (৫৬)। এর মধ্যে নিলুফা সুলতানা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অধিশাখা-২ এর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) হিসেবে কর্মরত। শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার জানান, গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) কামরুল হাসান ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ডিএমপি কমিশনার ডিবিকে বিষয়টি অনুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এক ব্যক্তি তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্টদের ফোন করে আসছিলেন। ওই ব্যক্তি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদায়নের বিষয়ে অবৈধভাবে আর্থিক লেনদেনের জন্য যোগাযোগ করেছেন বলে গোপন তথ্যে জানা যায়। এছাড়াও ওই ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে দাবি করেন যে, মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেকোনো কাজ করার সক্ষমতা তার রয়েছে।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম গোপন অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৯টায় হাতিরঝিল থানাধীন পশ্চিম রামপুরার একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে মূল হোতা এম আমিনুর রহমান শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার জানান, গ্রেপ্তারকৃত শান্ত ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বিশ্লেষণ করে ওই চক্রের আরেকজন সদস্যের তথ্য পাওয়া যায়। পরে অভিযান পরিচালনা করে চক্রের সাথে জড়িত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অধিশাখা-২ এর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিলুফা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা থানায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে।

এদিকে সম্প্রতি মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে দায়েরকৃত মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়া হবে। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এর আগেও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। তার অতীত কর্মকাণ্ড ভালো ছিল না। তার স্বভাবচরিত্র খারাপ ছিল।

 

 

  • কর্মকর্তা
  • গ্রেপ্তার
  • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়