যশোরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ঘন্টা আগে
প্রতীকী ছবি

যশোরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সুজন নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সোমবার ভোরে শহরের শেখহাটি তমালতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সুজনের স্ত্রী নিহত ছামিনা আক্তার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্বামীর সঙ্গে যশোর শহরের শেখহাটি তমালতলা এলাকায় ভাড়া বাসা থাকতেন তিনি। সুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।

পুলিশ জানায়, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাসায় নেশার টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ছামিনা আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় ছামিনাকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর সুজন তার নিজের শরীরেও ছুরি দিয়ে একাধিক স্থানে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনেরা তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত ছামিনার মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে ছামিনাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে সুজন বেকার ছিলেন এবং আবারও বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকিরুল ইসলাম বলেন, ছামিনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া সুজনের শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যে বিয়ে করে আলাদাভাবে বসবাস করতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

  • যশোর
  • স্ত্রী
  • হত্যা