প্রতীকী ছবি
দেশের আলাদা দুটি জেলায় মায়ের ওপর সন্তানের নিষ্ঠুরতার দুটি লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের বটির কোপে এক বৃদ্ধা মা খুন হয়েছেন। অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর সদরে সম্পত্তির জন্য ওড়না পেঁচিয়ে মাকে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ছেলে ও ছেলের বউকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুটি জেলাতেই পুলিশ এই তিনজনকে আইনের আওতায় আনে।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মধ্য ধুসুরিয়া গ্রামে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ এক মেয়ের হাতে রেজিয়া বেগম (৯৫) নামের এক বৃদ্ধা মা খুন হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রেজিয়া বেগম ওই গ্রামের মৃত সোবহানের স্ত্রী। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়ে রোকেয়া বেগমকে (৬০) আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ঘরের ভেতরে থাকা বটি দিয়ে নিজের মা রেজিয়া বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেন রোকেয়া। পরে তিনি তার বড়ো ভাই মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাসেলকে ডেকে স্বাভাবিকভাবে জানান যে তার দাদি মারা গেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় রেজিয়া বেগমের মরদেহ দেখতে পান।
হরিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিক্যার কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মেয়ে রোকেয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে সম্পত্তির জন্য খোতেজা বেগম নামের এক মাকে নির্যাতন ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় বড়ো ছেলে ও ছেলের বউকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী। গ্রেপ্তাররা হলেন খোতেজা বেগমের বড়ো ছেলে ফখরুল রাজু (৩৫) ও পুত্রবধূ মানিকা স্বপ্না (৩০)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ছয় জুন রাত আটটার দিকে ফখরুল রাজু ও তার স্ত্রী মানিকা স্বপ্না সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য খোতেজা বেগমকে চাপ সৃষ্টি করেন। খোতেজা বেগম রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। মায়ের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে খোতেজা বেগমের ছোট ছেলে রাকিব হোসেন তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় ছোট ছেলে বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লক্ষ্মীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিনুর ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
