এমপি পীরজাদা সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। ছবি: সংগৃহীত
মাদারীপুরের শিবচরে একটি সালিশ বৈঠকে কথা বলায় মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালার উত্তেজিত হয়ে টেবিল চাপড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’
তার এমন বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়ায় আয়োজিত একটি সালিশ বৈঠকে দত্তপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মারুফুল হাসান তারার সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মারুফুল হাসান তারা বলেন, ‘ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। আমার বাড়ির পাশে বাদল মাতবর ও করিমা মাতবরদের মধ্যে মারামারির মীমাংসা সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সালিশগণসহ উভয়পক্ষের অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিচার চলাকালে আমি সালিশ হিসেবে কথা বলায় তিনি রেগে যান এবং চিল্লাপাল্লা করেন।’
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ দেন না। তিনি একাই সব বলতে চান। তার কথা হলো, তিনি কোন সালিশে থাকলে আর কোনো সালিশ কথা বলতে পারবেন না। এজন্য আমি সালিশ হিসেবে কথা বলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি বেয়াদবের মতো আচরণ করেন। তবে যাওয়ার সময় তিনি আমার কাছে ভুল স্বীকার করে গিয়েছিলেন।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারান। এ সময় সালিশে উপস্থিত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এক পর্যায়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে ভিডিওটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।
এদিকে জানতে চাইলে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা প্রায় এক/দেড় মাস আগের। ওরা আমাকে ছাড়া বিচারে বসবেই না। পরে আমি গিয়েছি। সালিশের সময় উভয় পক্ষই কথা বলতেছিল। তর্কে জড়াইছিল। তারা বেশ প্যাচাপেঁচি করতেছিল। তখন আমি ধমক দিয়েছি। তবে বিচার কাজটি বেশ সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে।’
