সিরাজগঞ্জ কারাগারে আরও এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১ দিন আগে
ছবি: বাবুল মন্ডল

সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবারও এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক বাবলু মণ্ডল (৫২)। গত ১০ মাসে রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে একই কারাগারে মারা যাওয়া এটি তৃতীয় ঘটনা।

জেলা কারাগারের জেল সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সদর থানায় দায়ের হওয়া মারামারি ও বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গত ২২ জুন কারাগারে আসেন বাবলু মণ্ডল। কারাগারে প্রবেশের সময় থেকেই তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. গোলাম রাব্বি খান বলেন, বাবলু মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে তীব্র শ্বাসকষ্টের একপর্যায়ে হার্ট ফেইলরের তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে নিহতের ছেলে সাগর আহমেদ দাবি করেন, সামান্য উচ্চ রক্তচাপ ছাড়া তার বাবার বড় ধরনের কোনো অসুস্থতা ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, কারা কর্তৃপক্ষ কখনো পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতার বিষয়ে অবহিত করেনি। গত শুক্রবার সাক্ষাতের সময়ও বাবাকে সুস্থ দেখেছেন বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ১৫ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম লিটন (৪৭)। এছাড়া ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নিষিদ্ধ ঘোষিত এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহমেদ মোস্তফা খান বাচ্চু।

কারা সূত্র জানায়, ৩৫২ জন ধারণক্ষমতার সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার বন্দি রয়েছেন। অথচ তাদের চিকিৎসাসেবায় রয়েছেন ডেপুটেশনে কর্মরত মাত্র একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট। চিকিৎসক প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর জরুরি পরিস্থিতিতে ফার্মাসিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন।

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, স্বজনদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ এলে তদন্ত করা হবে। তিনি চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ বলেন, চিকিৎসা নথি পর্যালোচনার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বন্দিদের চিকিৎসা বা মৃত্যু নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।

রাজশাহী বিভাগের ডিআইজি (কারা) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের অধিকাংশ কারাগারেই নিয়মিত চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

  • আওয়ামী লীগ নেতা
  • কারাগার
  • মৃত্যু
  • সিরাজগঞ্জ