সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে এই সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশে মঙ্গলবার (১৯ মে) এই প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। প্রজ্ঞাপনটি আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফেরত নেওয়া ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের তারিখ দেখানো হয়েছে গত ১০ এপ্রিল থেকে।
এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের ১৫ সদস্যকে পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের জন্য পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো। তাদের দাখিল করা যোগদানপত্র ১০ এপ্রিল থেকে ভূতাপেক্ষভাবে গ্রহণ করা হলো।
এক রিট মামলায় চূড়ান্ত শুনানির পর গত বছর ২ সেপ্টেম্বর রায় দেন উচ্চ আদালত। রায়ে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ‘স্বতন্ত্র সচিবালয়’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের মধ্যে গত বছর ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার।
অধ্যাদেশ জারির পরদিনই অর্থাৎ গত ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সচিবালয়ের সচিবের দায়িত্ব দেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
ওইদিনই সচিবালয়ের জন্য পদ সৃষ্টি, বিলোপ বা বিন্যাসে সংক্রান্ত ‘পদ সৃজন’ কমিটি গঠন করা হয়। পরে ১০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদ সংলগ্ন ৪ নম্বর প্রশাসনিক ভবনে সচিবালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ওই ভবনেই চলে আসছিল সচিবালয়ের কাজ। এর মধ্যে গত ৯ এপ্রিল বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয় সংসদে।
