নিখোঁজের ৪ দিন পর সাবেক যুবদলনেতার মরদেহ উদ্ধার

লেখক: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে
প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর আমিনুল ইসলাম খান মিন্টু (৩০) নামে এক সাবেক যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার কাউটেনগর মাছুয়া বিলের (মাইচা বিল) প্রায় পানিশূন্য একটি খালের ভেতর কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আমিনুল ইসলাম খান মিন্টু উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ছনখোলা আমুয়াবাইদ এলাকার আব্দুল মজিদ মাস্টারের ছেলে। তিনি সংগ্রামপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার বড় ভাই আব্দুল মান্নান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মিন্টু গাজীপুরের টঙ্গী পাগার এলাকায় অবস্থিত ‘জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড’ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন এবং কুরবানির ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চাপড়ী বাজার থেকে মিন্টু নিখোঁজ হন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে সোমবার তার বড় ভাই আব্দুল মান্নান ঘাটাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে প্রথমে সোহেল রানা (৩৫) নামে একজনকে আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও চারজনকে আটক করা হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে। আটককৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বুধবার রাতে মাছুয়া বিলের একটি খাল থেকে কচুরিপানা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মিন্টুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের বড় ভাই আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল। আমি আমার ভাই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্ত ও বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে এখনই তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোপালপুর সার্কেল) ফৌজিয়া হাবিব খান জানান, নিখোঁজের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • উদ্ধার
  • ঘাটাইল
  • টাঙ্গাইল
  • মরদেহ
  • যুবদলনেতা