দলের অনেক তারকা ক্রিকেটারকে ছাড়াই বাংলাদেশ সফরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া দল। মাঠে নেমে স্টার্ক-কামিন্সদের অভাব হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে অজিরা। বৃহস্পতিবার মিরপুরে টাইগারদের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচেই বিধ্বস্ত হয়েছে ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দলটি। টানা দুই ম্যাচ জিততে অজিদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ ঘরে তুলেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অজিদের ৪ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই গুড লেন্থের বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন সৌম্য সরকার। দুজন মিলে ৮৬ রানের জুটি গড়ে দলের ভিত্তি মজবুত করেন। তবে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ৪২ রান করে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য।
৮৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পরও দলের হাল ধরেন শান্ত। তবে ৯৮ রানের মাথায় ৪২ রান করে তিনিও আউট হন। বিদায়ের আগে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দুই হাজার রান পূর্ণ করে দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন।
মিরপুরে ওয়ানডেতে লিটন দাসের অপেক্ষা এবারও শেষ হয়নি। প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে এই মাঠে এখনও কোনো ফিফটির দেখা পাননি তিনি। এদিনও ভালো শুরু করেও ২১ রানে থামতে হয় তাকে। ক্যামেরুন গ্রিনের বাউন্সার গ্লাভসে লেগে উইকেটরক্ষক জশ ইংলিসের হাতে ক্যাচ দিলে ফিরতে হয় সাজঘরে।
ছয়ে নেমে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন মোসাদ্দেক হোসেন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলেন তিনি এবং বিশেষ করে অ্যাডাম জাম্পার বিপক্ষে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকান। তবে বড় শট খেলতে গিয়ে একই বোলারের শিকার হন মোসাদ্দেক। ১৪৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে হঠাৎ করেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
সেখান থেকে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয় দলের হাল ধরেন। দুজন মিলে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বের করে আনেন। শেষ পর্যন্ত ছক্কা মেরে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন মিরাজ। তিনি ২২ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে ৯৫ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন হৃদয়।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে দলটি চাপে পড়ে যায়। অলরাউন্ডার ক্যামেরুন গ্রিন আউট হওয়ার পর সেই চাপ আরও বাড়ে। একসময় ২০০ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয় তাদের।
তবে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট। দুজন মিলে ১১৫ বলে ১০৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ের মতো সংগ্রহ এনে দেন। কঠিন পরিস্থিতিতে দুজনই তুলে নেন হাফ-সেঞ্চুরি।
এরপর তাসকিন আহমেদ ব্রেকথ্রু এনে দেন। তিনি ৪৮ বলে ৫২ রান করা বার্টলেটকে বোল্ড করেন। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান তোলার পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ বিরতির পর ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচ ৪১ ওভারে নির্ধারিত হয়। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। সেই লক্ষ্য তাড়া করে ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় টাইগাররা।
