প্রতীকী ছবি
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় টিউবয়েল ব্যবহারের বিরোধের জেরে বড় ভাইকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছোট ভাই। ঘটনার পর অভিযুক্ত রাজীব এলাকা থেকে পালিয়ে যান। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে কেশবপুর গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাইয়ের হামলায় আমির হোসেন সরদার (৪৫) নামে আপন বড় ভাই নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত জুয়েল সরদার (২৭)।
তিতাসে নিহত ইসমাইল মানিক (৪৫) ওই গ্রামের হাবিবুর রহমান মিয়ার বড় ছেলে। নিহতের মেয়ে রাইসা আক্তার জানান, বাড়ির টিউবওয়েল ব্যবহারের বিষয় নিয়ে তার বাবার সঙ্গে চাচার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় চাচার হাতে থাকা কোদাল দিয়ে বাবার গলায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে বাবা ঘটনাস্থলেই মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা এমন নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিদর্শন করেন।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক জানান, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। তবে এখনও কোনো মামলা হয়নি। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাইয়ের হামলায় আমির হোসেন সরদার (৪৫) নামে আপন বড় ভাই নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত জুয়েল সরদার (২৭)। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ১০টার দিকে গোসাইরহাট পৌরসভার মিত্রসেনপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আমির হোসেন সরদার ওই এলাকার মৃত গনি সরদারের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছোট ভাই সোহেল সরদারের তিন হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায় মেজ ভাই জুয়েল সরদার। বিষয়টি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে বড় ভাই আমির হোসেনকে জানানো হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে গিয়ে আমির হোসেন জুয়েলকে একটি থাপ্পড় দিয়ে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জুয়েল কিছুক্ষণ পর একটি কাঠের টুকরা নিয়ে ফিরে এসে পেছন থেকে আমির হোসেনের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে আমির হোসেন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী লাইজু বেগম বলেন, ছোট ভাই সোহেল আর মেজ ভাই জুয়েলের মধ্যে টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। আমার স্বামী তখন রাস্তার পাশে বসে মোবাইল দেখছিলেন। পরে বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে জুয়েল ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে কাঠ দিয়ে আমার স্বামীর মাথায় আঘাত করে। তখন আমার স্বামীর শেষবারের মতো একটা কথাই বলেছিল, আমাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতাল নে। আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিলেও তাকে বাঁচাতে পারিনি।
গোসাইরহাট থানার ওসি বোরহান উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত জুয়েল সরদারকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান চলছে। তবে এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
